স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলে গোল আর মাঠের বাইরে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য—দুই জায়গাতেই সাফল্যের পথে হ্যারি কেইন। পরিবারের সঙ্গে গড়া প্রতিষ্ঠান, আবাসন খাতে বিনিয়োগ ও বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিতে নিশ্চিত করছেন ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা।
ফুটবল মাঠে গোলের পর গোল, ব্যক্তিগত অর্জনেও একের পর এক সাফল্য। মাঠের বাইরে আবার ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় ব্যস্ত হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার। ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তবে ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা। খেলার বাইরেও নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন তিনি।
মাত্র ২১ বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এইচকে২৮ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন কেইন। ‘দ্য হ্যারি কেইন কোম্পানি’ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তাঁর ফুটবল চুক্তি, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও দাতব্য উদ্যোগ পরিচালিত হয়। স্পনসরশিপ থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থাপনা—নিজের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পছন্দ করেন এই ইংলিশ তারকা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আবাসন খাতেও বিনিয়োগ করেছেন তিনি।
ব্যবসায়িক উদ্যোগে কেইনের সঙ্গী হয়েছেন ফুটবলের পরিচিত মুখেরাও। চেলসির সাবেক অধিনায়ক জন টেরির সঙ্গে টিকিট ব্যবস্থাপনা ও বিপণন খাতের একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি অ্যামাজন ও ক্যাডবেরির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছে তাঁর বাণিজ্যিক চুক্তি। ক্রীড়াসামগ্রীর স্পনসরশিপেও প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে স্কেচার্সের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি, এমনকি আজীবন চুক্তি করেছেন বলে জানা যায়।
বায়ার্ন মিউনিখে খেলার সুবাদে মোটা অঙ্কের বেতনও পাচ্ছেন কেইন। ক্লাবের হয়ে নিয়মিত গোল করে নিজের গুরুত্ব যেমন প্রমাণ করছেন, তেমনি মাঠের বাইরেও গড়ে তুলছেন আয়ের একাধিক উৎস। ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পরও যাতে আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে না হয়, সেই পরিকল্পনাই যেন আগেভাগে সেরে রাখছেন ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
পেশাদার ফুটবলে ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে পারে পারফরম্যান্স, কমে যেতে পারে আয়ও। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ফুটবলের পাশাপাশি ব্যবসায় মনোযোগী কেইন। গোলের জন্য যেমন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে জানেন, তেমনি মাঠের বাইরেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগোচ্ছেন তিনি। ফুটবলের সাফল্যকে পুঁজি করে ব্যবসায়িক জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করার এই উদ্যোগ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিচ্ছে।