স্পোর্টস ডেস্ক : টি-টোয়েন্টিতে ৯ বলে অর্ধশতরান! ৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট! এমন সব অবিশ্বাস্য রেকর্ডের ভিড়ে প্রশ্ন তুললেন সুনীল গাভাস্কর। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের মতে, পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশগুলির রেকর্ড একই তালিকায় রাখলে ক্রিকেটের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে না। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) উচিত টি-টোয়েন্টির রেকর্ডে আলাদা বিভাগ চালু করা। নইলে মুড়ি-মিছরির এক দর হয়ে যাচ্ছে!
টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৪৪ রান করেছে জিম্বাবোয়ে, গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে। একই ম্যাচে ২৯০ রানে জিতে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের রেকর্ডও গড়েছে তারা। আবার এই সংস্করণে সবচেয়ে কম ৭ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জার রেকর্ড আইভরি কোস্টের। টানা ২৪টি ম্যাচ জিতে নজির গড়েছে স্পেন। এসব রেকর্ডের পেছনে প্রতিপক্ষের শক্তির পার্থক্যও বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন গাওস্কর।-- আনন্দবাজার
তাঁর প্রস্তাব, ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও ডিভিশনভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হোক। পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশগুলির দ্বিপাক্ষিক ম্যাচের রেকর্ড রাখা হোক আলাদা বিভাগে। তবে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সবাই একসঙ্গে খেললে সেই রেকর্ড একই তালিকায় থাকতে পারে।
গাভাস্করের যুক্তি, সব দলের ক্রিকেটের মান এক নয়। তাই সহযোগী সদস্য দেশের বিরুদ্ধে গড়া রেকর্ডের সঙ্গে পূর্ণ সদস্য দেশের বিরুদ্ধে গড়া রেকর্ডকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা কতটা যুক্তিসংগত, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় না নিয়ে সব রেকর্ড এক তালিকায় রাখলে খেলোয়াড়দের কৃতিত্বের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না।
উদাহরণ হিসেবে এসেছে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন যুবরাজ সিংহ। পরে মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ৯ বলে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন নেপালের দীপেন্দ্র ঐরি। একইভাবে, মায়ানমারের বিরুদ্ধে ৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের নজির গড়েছেন ভুটানের সোনম ইয়েশি। কিন্তু প্রতিপক্ষের শক্তির পার্থক্য কি এসব রেকর্ডের মূল্যায়নে বিবেচনায় আসা উচিত নয়? প্রশ্ন গাভাস্করের।
তবে নেপালের অগ্রগতিকে খাটো করে দেখছেন না ভারতের প্রাক্তন তারকা। তাঁর মতে, নেপাল ক্রিকেটে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তারা লড়াই করেছে। কিন্তু মঙ্গোলিয়া বা মায়ানমারের বিরুদ্ধে খেলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। তাই প্রতিপক্ষের মান অনুযায়ী রেকর্ডের পৃথক বিভাগ থাকা প্রয়োজন বলেই মনে করেন গাভাস্কর।