শিরোনাম
◈ আইসিসির এক সিদ্ধান্তে ২৪৪ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড! ◈ ‘শখের’ যুদ্ধই এখন ট্রাম্পের গলার কাঁটা, কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? ◈ আটক ইমরান খানের স‌ঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ক‌রে‌ছে পা‌কিস্তান সরকার: সৈয়দ আশরাফুল হক ◈ ‘সুপার সাইজড’ এল নিনো আসছে, বাড়ছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি : সতর্কতা জাতিসংঘের ◈ গণমাধ্যমে ‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ শিরোনামে সংবাদ, যা জানাল পুলিশ ◈ নতুন যে পরিবর্তন এলো জমির নামজারিতে, আরো যা জানা জরুরী ◈ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনও স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা ◈ দুর্যোগকবলিত নেপালকে ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা দিল বাংলাদেশ ◈ খে‌লোয়াড়‌দের আ‌র্থিক ক্ষ‌তি সামলা‌তে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ালো বিসিবি

প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৮ সকাল
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আটক ইমরান খানের স‌ঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ক‌রে‌ছে পা‌কিস্তান সরকার: সৈয়দ আশরাফুল হক

স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির রাজনৈতিক নেতা ইমরান খানের সঙ্গে কারাগারে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুল হক। তিনি বলেছেন, ইমরান খানকে যেভাবে আটক রাখা হয়েছে, তা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। তাঁর সঙ্গে করা আচরণ ‘বর্বরতার শামিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইমরান খানকে একজন বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল দেশটিতে বিদ্যমান দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাওয়া। জনগণের কাছ থেকে দেশ পরিচালনার জন্য ইমরান খানের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। -- ডেইলি ক্রিকেট

তিনি বলেন, ‘ইমরান খান সারা বিশ্বে অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি। পাকিস্তানের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানে যে দুর্নীতি রয়েছে, তা থেকে দেশকে মুক্ত করা। দেশের জনগণের কাছ থেকে দেশ পরিচালনার জন্য তাঁর সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট ছিল। তাঁকে অমানবিক পরিবেশে কারাগারে আটকে রাখা বিশ্বের মানুষ চায় না, কোনো সভ্য দেশও এমনটা চাইবে না। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং কতটা অসাংবিধানিক, সেটিও স্পষ্ট। ইমরান খানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বর্বরতার শামিল।

ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে আসার সময় ইমরানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আমি ইমরান খানকে চিনি। সে সময় তিনি ঢাকায় লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে এসেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও উজ্জ্বল এক তরুণ। সেই সময় তিনি খুব জোরে বল করতেন। তবে আমার মনে আছে, আমাদের বিপক্ষে খেলায় শেষ পর্যন্ত তিনি একটি সেঞ্চুরিও করেছিলেন। সেই ম্যাচের সময়ই আমাদের বন্ধুত্ব হয় এবং তারপর থেকে আমরা সবসময় যোগাযোগে ছিলাম।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময়ও তাঁদের নিয়মিত দেখা হতো বলে জানান সৈয়দ আশরাফুল হক। তিনি বলেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিবল কলেজে গিয়ে তিনি ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতেন। সেখানে ইমরান মাঝে মাঝে হকিও খেলতেন।

সৈয়দ আশরাফুল হকের ভাষায়, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, আমরা দুজনই যখন ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করছিলাম, তখন আমাদের দেখা হতো। আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিবল কলেজে তাঁকে দেখতে যেতাম, যেখানে মাঝে মাঝে তিনি হকিও খেলতেন। পাকিস্তান যখন ভারত সফরে টেস্ট সিরিজ খেলতে যেত, তখন আমি ভারতেও তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেও আমাদের দেখা হয়েছে। তিনি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে পরবর্তী সময়ে ইমরান খানের জীবন নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন থাকতেন বলেও জানান সৈয়দ আশরাফুল হক। তবে ইমরান খান ভাগ্য ও আল্লাহর ইচ্ছার ওপর আস্থা রাখতেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী বছরগুলোতে যখনই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে আমি তাঁর জীবন নিয়ে আশঙ্কা করতাম। কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত আল্লাহভীরু একজন মানুষ। তিনি আমাকে বলতেন, “আশ, যদি আমার ভাগ্যে এভাবেই মৃত্যু লেখা থাকে, তাহলে সেভাবেই আমি মারা যাব। তুমি আমাকে বাঁচাতে পারবে না, কেউই পারবে না। এটা আল্লাহর ইচ্ছা। তাই যদি আমার নামে একটি গুলি লেখা থাকে, তাহলে সেই গুলি আমার শরীর ভেদ করবেই। তাহলে এটা নিয়ে আমি কেন চিন্তা করব এবং জীবনের নীতিগুলো ভুলে যাব?

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত—ইমরান খান পাকিস্তানের প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে এমন অবস্থান নিয়েছিলেন বলে স্মরণ করেন সৈয়দ আশরাফুল হক।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, পাকিস্তানের প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনিই জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত সব নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত। ইমরান খানের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর একাধিকবার দেখা হয়েছে বলে জানান সৈয়দ আশরাফুল হক। ১৯৯০-এর দশকে ঢাকায় ইমরান খান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌভ্রমণের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।

সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, ‘আমি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও বহুবার দেখা করেছি। ১৯৯০-এর দশকে ঢাকায় আমরা সবাই বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌভ্রমণে গিয়েছিলাম—সেই স্মৃতিটি আমি অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে মনে করি। ইমরান চাইলে পারিবারিক জীবন বেছে নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তাঁর নীতির কারণে সেসব ত্যাগ করেছেন।’

ইমরান খান পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছু করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে তাঁর বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৈয়দ আশরাফুল হক। একই সঙ্গে ইমরানের পক্ষে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, সেটির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তিনি পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছু করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা অমানবিক। সারা বিশ্বে যে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, তার দিকে তাকান। সবাই বলছে, তাঁর সঙ্গে এভাবে আচরণ করা সঠিক নয়। ইমরান খানের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, অন্তত তাঁর জন্য কিছুটা স্বস্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করা উচিত।

  • সর্বশেষ