স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ সফর নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। বোর্ডটির চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটের বৈশ্বিক মর্যাদা ধরে রাখতে আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাবের বাইরে গিয়েও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মতে, ক্রিকেটের অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডের ওপর এই দায়িত্বও রয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ইংল্যান্ডের। এই সফরে ইংল্যান্ডের বড় অঙ্কের আর্থিক খরচ হবে স্বীকার করেও থম্পসন জানিয়েছেন, শুধু অর্থনৈতিক বিবেচনায় এমন সফর বাতিল করা উচিত নয়।
স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসিবি চেয়ারম্যান বলেন, “বিশ্ব ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের নেতৃত্বের একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে।
আমরা যা করি, সেটিই বিশ্বব্যাপী বেশি মনোযোগ পায়। বাস্তবতা হলো, আমরা এমন কিছু কাজ করি, যেগুলো না করলেও চলে এবং যেগুলো করতে আমাদের অর্থ খরচ হয়। আমাদের বাংলাদেশ সফর করতেই হবে। এতে আমাদের অনেক টাকা খরচ হবে। কিন্তু আমাদের সেটা করতেই হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন থম্পসন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। পরে ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জেতায় ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ হয়।
বাংলাদেশের ওই সাফল্যকে টেস্ট ক্রিকেটের বিস্তৃত সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ইসিবি প্রধান।
থম্পসন বলেন, “বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই প্রমাণ করে, তাদের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।”
শুধু বাংলাদেশ নয়, টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট আয়োজনের উদাহরণও টেনেছেন তিনি। তার মতে, সব সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে লাভজনক না হলেও ক্রিকেটের স্বার্থে সেগুলো নেওয়া জরুরি।
ইসিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা জিম্বাবুয়েকে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে নিয়ে এসেছি এবং এর খরচও আমরা বহন করেছি।
থম্পসনের মতে, টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ শুধু বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। ঐতিহ্য ও মর্যাদা বিবেচনায় ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব রয়েছে প্রভাবশালী দেশগুলোর। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু মূল্যায়ন বা হিসাবের নয়, এটি মূল্যবোধের বিষয়। টেস্ট ক্রিকেটের পবিত্রতা ও মর্যাদাকে মূল্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।