যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়া আর কোনো কার্যকর পথ নেই বলে মন্তব্য করেছে চীন। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ইস্যুতে সংলাপ ও আলোচনা একমাত্র কার্যকর পথ। চীন অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান ধারাবাহিক ও স্পষ্ট।
চীনের এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কে বলেছে আমি তা করছি না?’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সব সিদ্ধান্ত আগেভাগে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।
এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও জানান, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এখনো স্থবির রয়েছে। তবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির আওতায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।
ইরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন এই অভিযান দুই দেশের যুদ্ধের পর আরও জোরদার হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সংঘাতে ইরানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ মার্কিন সেনাসদস্যও রয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তেহরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন হুমকির মধ্যেই চীন সংলাপের ওপর জোর দিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর পারস্পরিক সফরের অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে।
ইরান ইস্যুতে চীনের এ অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা থমকে আছে এবং হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি