রংপুরে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ তুলেছেন গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস।
তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে। তার ভাই সিদ্ধার্থকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এমন তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাকিম বলেন, ভুল করে মটারের সুইচ অন করা হয়েছিল। যখন ট্যাংকির পানি ভর্তি হয়েছে তখন সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য কিছু না। যারা বলছে আলামত নষ্ট করা হয়েছে, এমন তথ্য সঠিক না।
গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানি প্রসঙ্গে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, এখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। লাইটের সুইচ অন করার সময় ভুল করে মোটরের সুইস অন হয়েছে। কেননা পুলিশ তো এই বাড়ির কোথায় কি সেটা জানে না। এতে ট্যাংকির পানি ওভার ফ্লো হয়ে ছাদে পড়েছে, আর কিছু না। আলামত নষ্ট করার অভিযোগ একেবারে অবান্তর। কেননা আলমত লাশ উদ্ধারের সময় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে তালাবদ্ধ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার হয়।
এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।
পরে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পুলিশ দাবি করেছে, এই তিনজন ঘটনার রাতে একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে শনিবার (২৯ আগস্ট) ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উৎস: আরটিভি অনলাইন।