অনুজ দেব বাপু, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। গেল জুলাই মাসেই এর আগের জুন মাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়েছিল ডেঙ্গু রোগী। চলতি মাসেও না কমে বরং ডেঙ্গু আক্রান্তের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে নতুন করে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছে চট্টগ্রাম সিজিল সার্জন অফিস। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭৯ জনে।
চট্টগ্রামে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম মৃত্যু হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। এরপর গত জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এরমধ্যে একজন মারা যান ১১ জুলাই। নুরজাহান বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয় গত ২৭ জুলাই। সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মো. মহিন উদ্দিন (৩৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার ডেঙ্গু পজিটিভ নিয়ে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘এক্সপানডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’। চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন নগরের, একজন সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া সর্বশেষ মারা যাওয়া পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা মো. মহিন উদ্দিনের স্থায়ী বাড়ি সন্দ্বীপের মুসাপুরে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ৩ এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ১৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭০৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ৫৭১ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৩০৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭৯ জনে। এরমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৭১৯ জন।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর জুড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এঅবস্থায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সবাইকে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরামর্শমতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এবং সচেতন থাকলে আক্রান্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।