শিরোনাম
◈ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন ◈ সিআইপি হওয়ার নতুন নীতিমালা: যোগ্যতা, সুবিধা ও অযোগ্যতার তালিকা ◈ নামিবিয়ার কাছে পরাস্ত হওয়ার পর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকা  ◈ সি‌লে‌টের দক্ষিণ সুরমায় পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা আছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ◈ প্রজ্ঞাপনের আগেই জানা গেল সম্ভাব্য পে-স্কেল, কার বেতন কত ◈ জমি, পরকীয়া, মাদক ও ছিনতাই: দুই সপ্তাহে ৯ খুন রংপুরে ◈ হত্যার পর ছাদজুড়ে পানি ঢালল কে? রংপুরের ঘটনায় নতুন মোড় ◈ কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমায়, ডুবছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু ◈ ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ◈ ইরানের হুমকির পর ঘরবন্দি ট্রাম্পপুত্র ব্যারন, কাটছে অন্তর্মুখী জীবন

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৪৭ রাত
আপডেট : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৫৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও দায়ীদের শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের

গুমের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন।

৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি জানান।

বিবৃতিতে জামায়াতের আমির বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজকের এই দিনে আমরা গুমের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং তাদের শোকার্ত ও প্রতীক্ষারত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার শত শত মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও প্রিয় মানুষের সন্ধান না পেয়ে অগণিত পরিবার আজও গভীর মানসিক ট্রমা ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। অনেক পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিরোধী মত ও কণ্ঠরোধ করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা, যেখানে বছরের পর বছর ধরে নিরীহ মানুষের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম নির্যাতন চালানো হয়েছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে এভাবে নাগরিকদের গুম করে রাখা কেবল মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়। বরং আন্তর্জাতিক আইনেরও সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এলেও জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ছাত্রশিবির নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

বিবৃতিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর কার্যকারিতা লোপ পাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানান জামায়াতের আমির। নতুন খসড়া বিলে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গুমের মতো বিশেষ অপরাধের তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার মাধ্যমে হওয়া উচিত। এছাড়া, গুমসংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুমের ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন সরকার নিজেই সম্পৃক্ত থাকে। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এ প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গুমের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব ব্যক্তি ও মাস্টারমাইন্ডদের বিচারে আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীন তদন্ত ও দ্রুত বিচারের জন্য কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

  • সর্বশেষ