শিরোনাম
◈ আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল: টিকিটের দামেই নতুন ইতিহাস ◈ লেবারের নেতৃত্বে অ্যান্ডি বার্নহাম, প্রথম ভাষণেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ◈ নদীর পানি বাড়ছে, উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে বন্যা নিয়ে সতর্কতা ◈ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের গুঞ্জন, আলোচনায় একাধিক নতুন নাম ◈ ইরানে ট্রাম্পের ‘মহাপরিকল্পনা’ কি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি? ◈ শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী তানিম রেজা বাপ্পি আটক ◈ সরকারের ৫ মাস পূর্তি: শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ দেশের যেসব অঞ্চলে সকালের মধ্যেই ঝড় হতে পারে  ◈ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের নতুন বক্তব্য ◈ এটা রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, যাকে পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন: ছাত্রদল নেতাকে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কড়া জবাব

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৩ রাত
আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, ব্যক্তিগত রেকর্ডেও চোখ

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই নাকি ‘সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয়’ ম্যাচ। একদিক থেকে কথাটা ফেলনা নয়। ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর কে খেলতে চায় আরেকটা ম্যাচ? মানসিকভাবে ভঙ্গুর খেলোয়াড়দের অনেকটা জোর করে নামিয়ে দেয়া হয় মাঠে। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে একেবারেই অপ্রয়োজনীয় তা কিন্তু নয়। ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্যও ম্যাচটি সুযোগ করে দেয়। ফ্রান্সের জ্যঁ ফন্তেইনের কথাই ধরা যাক। ১৯৫৮ সালে যে রেকর্ড ১৩ গোল করেছিলেন সেটি সম্ভব হতো না, যদি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ না থাকতো। এবার লিওনেল মেসির সঙ্গে সমান ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসির চেয়ে পরিসংখ্যানে এগিয়ে যেতে আজ সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড। মিয়ামি স্টেডিয়ামে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায়।

ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন দিদিয়ের দেশম। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ শেষটায় মাথা উঁচু করেই বাড়ি ফিরতে চান। বলেছেন, এটা কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়। নিজেদের জন্য, ফ্রান্সের জার্সির মর্যাদার জন্য এবং সমর্থকদের জন্যও ম্যাচটি জিততে চান দেশম। এই ম্যাচে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভেবে শুরুতেই রাখা হবে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। ২০১২ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হন দেশম। তার অধীনে ১৮৪ ম্যাচে ১২০ জয় কুড়ায় ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ছাড়াও জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লীগ। তাছাড়া দেশমের অধীনে ২০১৬ ইউরো ও ২০২৫ নেশন্স লীগে রানার্সআপ হয় ফ্রান্স।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কোনো রাখঢাক রাখেননি। সরাসরি বলেছেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচটি খেলতে চায় না। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও না।’ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে এভাবে হারের পর আরেকটি ম্যাচে নামা মানসিকভাবে খুব কঠিন। এরপরও দু’দল পেশাদারিত্বে কোনো ঘাটতি রাখবে না বলে মনে করেন তিনি। টুখেল ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলের নিয়মিত তারকাদের অনেককে বিশ্রামে রাখা হবে। বেঞ্চে থাকা অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগ দেবেন তিনি। তাছাড়া ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ম্যাচটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জিততে পারলে ১৯৬৬ সালের পর এটিই হবে থ্রি লায়ন্সদের সর্বোচ্চ সাফল্য।

১৯৩০ সালে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ আসরে কোনো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ছিল না। পরের আসর থেকে চালু হয় এটি। সেবার অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে জার্মানি। তবে ১৯৫০ বিশ্বকাপেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয়নি। কারণ, সে আসরে নকআউটের বদলে চার দলের ফাইনাল গ্রুপ পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৯৫৪ থেকে প্রতিটি আসরেই এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

ফিফার হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৬ বার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলেছে জার্মানরা। জিতেছে চারবার। তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে ফ্রান্স (৪), উরুগুয়ে (৩), পোল্যান্ড (৩), সুইডেন (৩)।

তালিকায় দুই নম্বরে থাকা ফ্রান্স এর আগে ১৯৫৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে সেমিফাইনালে উঠে হেরে যায়। এর মধ্যে ১৯৫৮ সালের হারটি ছিল বেশ হৃদয়বিদারক। সেবার জ্যাঁ ফন্তেইন, রেমো কোপা, রজে পিয়াঁতোনি, জঁ ভাসাঁদের নিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। আসরে সর্বোচ্চ ২৩ গোল করেছিল দলটি। ফন্তেইন করেন ১৩ গোল। যা এখনো এক আসরে সর্বাধিক ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ড। মজার ব্যাপার হলো, জার্মানির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে একাই ৪ গোল করেছিলেন ফন্তেইন।

বর্তমান সময়ে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেরই বিজ্ঞাপন ভ্যালু আকাশচুম্বী। কাজেই আয়োজক দেশ ও ফিফার কাছে এর মূল্য অপরিসীম। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশের ফেডারেশনও আর্থিকভাবে লাভবান হয়। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের প্রাইজমানির তালিকা প্রকাশ করে ফিফা। ২০২২ আসর থেকে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবারের প্রাইজমানি। তালিকা অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার। রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ মিলিয়ন। আর তৃতীয় স্থানধারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার। তাদের চেয়ে ২ মিলিয়ন ডলার কম পাবে চতুর্থ হওয়া দল।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়