চীনের গুইয়াং শহরে জমির সংকট মোকাবিলায় প্রায় তিন দশক আগে নেওয়া এক ব্যতিক্রমী নগর পরিকল্পনা এখন উদ্ভাবনী আবাসন ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি অব্যবহৃত জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি উড়ালসেতুর নিচেই গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক আবাসিক ভবন।
১৯৯৭ সালে নির্মিত শুইকৌসি সেতু (শুইকৌসি ওভারপাস) চালুর পরপরই এর নিচের জায়গা ব্যবহার করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় গুইয়াং সিটি কর্তৃপক্ষ। সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের জন্য পর্যাপ্ত জমির অভাব থাকায় শহরের প্রান্তে সম্প্রসারণের পরিবর্তে কেন্দ্রের কাছাকাছি অব্যবহৃত স্থানকেই কাজে লাগানো হয়।
সেতু নির্মাণের দুই বছর পর এর নিচে প্রায় ১০টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এগুলো স্বল্প ভাড়ার আবাসন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের অংশ ছিল। পরে অবশিষ্ট খালি জায়গাতেও ধাপে ধাপে আরও ভবন নির্মাণ করা হয়।
এআই সম্মেলনকে সামনে রেখে চীন-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকএআই সম্মেলনকে সামনে রেখে চীন-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক প্রত্যাশিতভাবেই, মাথার ওপর দিয়ে অনবরত চলতে থাকা যানবাহনের কানফাটানো শব্দ এবং তীব্র কম্পন এই বিচিত্র আবাসনে থাকা হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে অবাক করা বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি নিয়ে বাসিন্দাদের খুব একটা অভিযোগ নেই। কারণ তাদের কাছে এই প্রতিকূলতার চেয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলে কম খরচে থাকার সুবিধাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ধীরে ধীরে তারা এই শব্দ আর ঝাঁকুনির সঙ্গেই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন এবং এটিকে তাদের অনন্য বাসস্থানের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হিসেবেই মেনে নিয়েছেন।
বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত করতে পরে কর্তৃপক্ষ সেতু দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করে। এতে শব্দ ও কম্পন কিছুটা কমেছে। যদিও সড়কের ধুলাবালি এখনও ঘরে ঢুকে পড়া ঠেকানো কঠিন এবং এটি গুইয়াংয়ের সবচেয়ে আরামদায়ক আবাসিক এলাকা নয়, তবুও কম খরচ ও শহরের কেন্দ্রের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে এলাকাটি এখনও বাসিন্দাদের কাছে আকর্ষণীয়।
মরুভূমির বুকে ‘অদৃশ্য’ হোটেল, খুঁজতেই কেটে যায় সময়মরুভূমির বুকে ‘অদৃশ্য’ হোটেল, খুঁজতেই কেটে যায় সময় বর্তমানে ৪০ লাখের বেশি জনসংখ্যার গুইয়াং শহরে সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি উদ্ভাবনী নগর পরিকল্পনার উদাহরণ হিসেবে শুইকৌসি সেতুর নিচের এই আবাসিক এলাকাকে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল