স্পোর্টস ডেস্ক : মেঘভরা রাতের আকাশ কাঁপিয়ে শেষ বাঁশি বাজতেই আর্জেন্টিনা ভক্তরা সগৌরবে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে এসে জড়ো হন। প্রিয় দল জয়ী হওয়ায় আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। রাতে আকাশ কাঁপিয়ে আতশবাজি, মোটরবাইক শোভাযাত্রা, ঢাক-ঢোল আর ‘ভামোস আর্জেন্টিনা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকার অলিগলি।
এদিকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড খেলা সময় বন্দর নগর চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার দুই নম্বর গেট এলাকায় ভিড়ের মধ্যে এক তরুণকে রাত আড়াইটা নাগাদ ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত তরুণের নাম মহম্মদ আসাদুল হক (২১)। তিনি বাঁশখালির ছনুয়া এলাকার শিকদার বাড়ির ইয়াসিন আলির ছেলে। এখন হামজারবাগ এলাকার সরওয়ারের বাড়িতে থাকেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা চলাকালে জনসমাগমের মধ্যে কয়েকজন আসাদুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। দুষ্কৃতীদের পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পরে বন্ধুরা আসাদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, এখন আশঙ্কামুক্ত তিনি।
আর্জেন্টিনার জয়ে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ি, জুরাইন, কদমতলি ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শত শত সমর্থক আকাশি-সাদা পতাকা হাতে সেমিফাইনালের রাতে রাস্তায় নেমে আসেন। কেউ গাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ান, কেউ মোটরবাইক বহরে শহর প্রদক্ষিণ করেন। অনেকেই আতশবাজি ফোটান। আবার কেউ মিষ্টি বিতরণ করে প্রিয় দলের জয় উদযাপন করেন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকলেও শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে ফেটে পড়েন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে ‘মেসি মেসি’ ধ্বনি শোনা যায়। তরুণদের পাশাপাশি শিশু-কিশোররাও পতাকা হাতে আনন্দ মিছিলে অংশ নেয়।
অনেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে নাচ-গানে মেতে উঠতে দেখা যায়। জুরাইনের বাসিন্দা আর্জেন্টিনা সমর্থক ইউসুফ বলেন, “ম্যাচটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠায় আনন্দটা অন্যরকম।
এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখেছি। খেলা শেষ হতেই আমরা সবাই রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছি। এখন একটাই অপেক্ষা, শিরোপা জেতার।