বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয়তার সব উপাদানই ছিল। পেনাল্টি মিস, দ্রুত দুই গোল, ইনজুরি সময়ে গোল, আবার ভিএআরে সেই গোল বাতিল, সব মিলিয়ে সিয়াটল স্টেডিয়ামে মিশর ও ইরান ১-১ গোলে ড্র করেছে। শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে হতাশ হতে হয়েছে ইরানকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দু'দল। মাত্র পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় মিশর। মোহাম্মদ সালাহর নেয়া শট ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বলে সুযোগ বুঝে গোল করেন সাবেল। বিশ্বকাপে এটি ছিল মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত গোল।
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ইরানকে। নবম মিনিটে মেহদি তারেমিকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মিশরের ডিফেন্ডার আবদেলমোনহেম। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তারেমি। ডান কোণে নেয়া তার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক শোবেইর।
পেনাল্টি মিসের হতাশা অবশ্য দ্রুত কাটিয়ে ওঠে ইরান। ১৪তম মিনিটে মোহাম্মাদির শট শোবেইর প্রথমে ফিরিয়ে দিলেও রিবাউন্ডে বল পেয়ে জালে পাঠান রেজায়েইয়ান। তাতেই ১-১ সমতায় ফিরে আসে ইরান।
এরপর দু’দলই সুযোগ তৈরি করেছে। মিশরের হয়ে ট্রেজেগুয়েত, সালাহ ও হানিরা চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে ইরানের আক্রমণে বারবার হুমকি হয়ে ওঠেন তারেমি, রেজায়েইয়ান ও এজাতোল্লাহি। প্রথমার্ধে পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ছিল ইরান। তাদের এক্সজি ছিল ১.১৮, যেখানে মিশরের ছিল মাত্র ০.৩১।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৪৯তম মিনিটে সালাহর তৈরি করা সুযোগ থেকে ট্রেজেগুয়েত গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু বেইরানভান্দ গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। কয়েক মিনিট পরই এজাতোল্লাহির দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। ৬৫তম মিনিটে নেমাতির অসাধারণ ডিফেন্স মিশরকে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত করে। অন্য প্রান্তে ৮৯তম মিনিটে কর্নার থেকে তারেমির হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষককে ফাউলের অভিযোগে পরে মিশর ফ্রি-কিকও পায়।
নাটকের চূড়ান্ত অধ্যায় আসে ইনজুরি সময়ে। ৯৩তম মিনিটে মিশরের ডিফেন্স বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ব্যাক পোস্টে বল পান খালিজাদেহ। কাছ থেকে জালে বল পাঠিয়ে ইরানকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ইরানি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে তখন স্টেডিয়াম মুখর।
কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। ভিএআরে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর দেখা যায়, গোলের সময় খালিজাদেহ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। স্কোরলাইন আবার ১-১ এ ফিরে আসে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ইরানের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এরপরও শেষ মুহূর্তে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইরান। ৯৭তম মিনিটে এজাতোল্লাহির স্পর্শে বল গোলবারের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে। অল্পের জন্য জয় হাতছাড়া হয় তাদের।
শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দু’দল। ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও জয় পায়নি কেউ। তবে ড্র করলেও গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ তে যাওয়ার সুযোগ আছে ইরানের। গ্রুপ জি থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেলজিয়াম ও রানার্সআপ হিসেবে মিশর নকআউট নিশ্চিত করেছে।