প্রথমার্ধের খেলায় মাত্র একটি গোল করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরও চারটি গোল করে ইরাককে বিধ্বস্ত করেছে সেনেগাল। আফ্রিকান দেশটির হয়ে জোড়া গোল করেছেন পাপে গেয়ে। এই জয়ের রাউন্ড অব ৩২- এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সেনেগাল।
কানাডার টরোন্টোতে পাপে গেয়ের জোড়া গোল ছাড়াও বাকি চার গোল করেন আব্দুল্লায়ে সেকে, ইসমাইলা সার ও ইলিমান এনদিয়ায়ে।
চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে নিজের মার্কারকে হারিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালের নিচের কোণে পাঠান আবদুলায়ে সেক। ফলে ম্যাচের শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।
গোল হজমের পর ১৩ মিনিটে রেবিন সুলাকা লাল কার্ড দেখলে আরও চাপে পড়ে ইরাক। সাদিও মানেকে ধরে ফেলে ভুল করেন ইরাকের এই ডিফেন্ডার। রেফারির মতে, মানে তখন গোলের স্পষ্ট সুযোগে ছিলেন। তাই ফাউলের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি বিতর্কের সুযোগ নেই। ১০ জনের ইরাক বড় চাপে পড়ে তখন।
তবে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধে আরকোনো গোল অবশ্য আদায় করে নিতে পারেনি সেনেগাল।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৬ মিনিটে নিজেদের অর্ধে ভয়াবহ ভুল করেন ইরাকের জিদান ইকবাল। বল কেড়ে নেন লামিন কামারা, পরে সেটি বাড়িয়ে দেন ইসমাইলা সারকে। সামনে ফাঁকা গোল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান সেনেগাল ফরোয়ার্ড। ব্যবধান হয় ২-০।
৫৯ মিনিটে ইরাকের আরেকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগান পাপে গেয়ে। বল পেয়ে নিজেই জায়গা তৈরি করে দুর্দান্ত শটে জালের ওপরের কোণে বল পাঠান তিনি। ওই গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।
৭১ মিনিটে আবারও গোল করেন পাপে গেয়ে। এটি ছিল নিজের দ্বিতীয় ও সেনেগালের চতুর্থ। বক্সে এলোমেলোভাবে ঘুরতে থাকা বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে জালের ওপরের কোণে বল পাঠান তিনি। বদলি হিসেবে নেমেই জোড়া গোলে সেনেগালের লিড ৪-০ করেন তিনি।
৮২ মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে কোনো চাপ ছাড়াই দুর্দান্ত শক্তিশালী শটে বল জালের কাছের ওপরের কোণে পাঠান ইলিমান এনদিয়ায়ে। ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আফ্রিকান দল এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার কীর্তি গড়লো সেনেগাল।
দুর্দান্ত এই জয়ে রাউন্ড অব ৩২- এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলো তারা।