শিরোনাম
◈ চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু ◈ বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণা: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার ◈ মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী ◈ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের: রয়টার্স ◈ যশোরে ২ কোটি ২২ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক ◈ রাতে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন-র‌্যালি না করার নির্দেশ ◈ সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে গড়িমসি চলবে না, বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া বার্তা ◈ শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ দিতে ৪৯৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার ◈ বাংলাদেশে শাখা খুলতে চায় জাপানের শীর্ষ ব্যাংক এমইউএফজি

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৬, ০৬:১২ বিকাল
আপডেট : ২৬ জুন, ২০২৬, ০৭:০৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণা: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশ বিদ্যমান ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব’ আরও এগিয়ে নিয়ে ‘নতুন যুগে চীন–বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব’ গঠনে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, চট্টগ্রামে চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফর শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ ঘোষণাপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত সামার ডাভোস ২০২৬-এ অংশ নেন। এ সময় তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা, ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার হয়েছে। চীন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে এবং নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ নীতির প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ঘোষণাপত্রে জানানো হয়, দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়াবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ শুরু করা হবে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সমন্বয়ে ‘২+২’ সংলাপ চালুর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এতে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে একটিই চীন, তাইওয়ান তার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা এবং চীনের জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং নিজস্ব উন্নয়নপথ বেছে নেওয়ার অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) বাস্তবায়নে আরও গতি আনার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থা, ই-কমার্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, চীন বাংলাদেশের শতভাগ পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল তিস্তা নদী প্রকল্প। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা দেবে। এ লক্ষে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করবেন। এছাড়া সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা পূর্বাভাস, নদী খনন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং সামুদ্রিক বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিনিধি বিনিময়, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা, সংবাদমাধ্যম, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব ও ক্রীড়া খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন জাতিসংঘে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) অংশীদার সদস্য হওয়ার আবেদনের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ ধারণা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে চীন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

সফরের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়