শিরোনাম
◈ ভারতের ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আত্মগোপনে থাকা সাবেক এমপি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত (ভিডিও) ◈ চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু ◈ বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণা: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার ◈ মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী ◈ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের: রয়টার্স ◈ যশোরে ২ কোটি ২২ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক ◈ রাতে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন-র‌্যালি না করার নির্দেশ ◈ সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে গড়িমসি চলবে না, বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া বার্তা ◈ শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ দিতে ৪৯৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৬, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ২৬ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ফরিদপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক মো. আশরাফ আলীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আশরাফ আলী (৪৬) আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক। একই মাদ্রাসার একটি কক্ষে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী ও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশরাফ আলী তাকে হেফজখানার শ্রেণিকক্ষ থেকে নিজের বাসায় ডেকে নেন। সে সময় তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিলেন না।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আশরাফ আলী। একপর্যায়ে কিশোরীটি নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি বাবা-মাকে জানায়।

পরিবারটি প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে তারা আইনের আশ্রয় নেয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে আশরাফ আলীকে একমাত্র অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পাশাপাশি জরিমানার ৭০ হাজার টাকা তার সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তারা দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়