মনিরুল ইসলাম : দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাণী মানুষকে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এর নেতৃত্বে বিএনপি ও জাসাস এর পক্ষ থেকে সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক চিত্র নায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, বিএনপির সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব (সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব), জাসাস কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির আহবায়ক চিত্র নায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ বিএনপি ও জাসাস এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য, উত্তর ও দক্ষিণ জাসাস এর নেতা- কর্মীরা।
রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন যুগান্তরের কবি, যিনি জীবনভর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার কবিতা ও সাহিত্য মানুষকে সব ধরনের অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে এবং প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সব গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রামে নজরুলের চেতনা ছিল প্রেরণার উৎস। বর্তমান সময়েও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তার বাণী মানুষকে সাহস জোগায়।
আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও তার রচিত কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাঙালির চেতনায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেও তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিপুল অবদান রেখে গেছেন।
দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত নজরুল তার সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের মাঝে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেন। তার অমর বাণী, “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য”, আজও সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হয়ে রয়েছে।