স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের সময়টা সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশেলে ভরা। একদিকে তাঁর কোচিংয়ে ভারত জিতেছে দু'টি আইসিসি ট্রফি, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অন্যদিকে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে ভারতকে।
প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফরের মতে, গম্ভীরের কোচিং কেরিয়ারে সবচেয়ে বড় দাগ হয়ে থাকবে এই দুই টেস্ট সিরিজের হার। পাশাপাশি সাদা বলের ক্রিকেটে কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা এড়ানো যেত বলে মনে করেন তিনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে জাফর বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সূর্যকুমার যাদবকে দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আরও ভালভাবে সামলানো যেত। একইভাবে মহম্মদ সামির ক্ষেত্রেও আরও ভাল আচরণ করা সম্ভব ছিল বলে তাঁর মত।
জাফরের কথায়, “কিছু ক্রিকেটার আরও ভাল ব্যবহারের যোগ্য ছিল। সূর্য, যাকে বিশ্বকাপ জয়ের পরই বাদ দেওয়া হয়েছিল, তার ক্ষেত্রেও বিষয়টি আরও ভালভাবে সামলানো যেত। সামির মতো আরও কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে গম্ভীরকে খুব বেশি দোষ দেওয়া যায় বলে আমি মনে করি না।”
তবে টেস্ট ক্রিকেটে গম্ভীরের সামনে এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে বলে মনে করেন জাফর। বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারকে তিনি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
জাফর বলেন, ওই দুটি হোয়াইটওয়াশের দাগ নিঃসন্দেহে ওর সঙ্গে থেকে যাবে। শুধু গম্ভীরের রেকর্ডে নয়, অধিনায়ক ও অন্যান্য ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব থাকবে। ভারতে এসে ভারতকে টেস্ট সিরিজে হারানো এমন একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, যা খুব বেশি দল আগে করতে পারেনি। তাই এভাবে হেরে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত খারাপ ছিল।
২০২৪-এর অক্টোবর-নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ০-৩ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারে ভারত। এর ফলে দেশের মাটিতে ১২ বছর পর প্রথমবার টেস্ট সিরিজ হারতে হয় ভারতকে।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ০-২ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারও ভারতের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা দেয়। জাফরের মতে, ওই দুই সিরিজে ভারত জিততে পারলে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট তালিকায় অনেক ভাল জায়গায় থাকতে পারত।
তাঁর বক্তব্য, “গম্ভীর নিশ্চয়ই ভাববেন, ওই সিরিজগুলো জিততে পারলে আমরা ডব্লিউটিসি টেবিলের শীর্ষে থাকতাম। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। শুধু তাঁর নয়, দলের ক্রিকেটারদেরও অনেক কিছু উন্নত করতে হবে।”
ফলে গম্ভীরের কোচিং অধ্যায়কে এক কথায় বিচার করা কঠিন। সাদা বলের ক্রিকেটে দুটি আইসিসি ট্রফি তাঁর সাফল্যের বড় প্রমাণ হলেও, ঘরের মাঠে পরপর দুই টেস্ট সিরিজে হারের স্মৃতি তাঁর কোচিং কেরিয়ারে দীর্ঘদিনের জন্য প্রশ্নচিহ্ন হয়ে থেকে যেতে পারে।