শিরোনাম
◈ কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত, ঢাকার পরবর্তী হাইকমিশনারের নিয়োগে ভারতের সম্মতি মেলেনি! ◈ যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ, পেনসিলভেনিয়ায় চার জ‌নের মৃত্যু ◈ মক্কার কাছে হুতিদের ড্রোন হামলার চেষ্টা, ভূপাতিত করল সৌদি ◈ এল‌চের বিরু‌দ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের সৌভাগ‌্যপ্রসুত জয়  ◈ এক সপ্তা‌হে ৩‌টি প্রী‌তি ম‌্যাচ খেল‌তে মা‌ঠে নাম‌ছে আর্জেন্টিনা ◈ ইমরান খানের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ার ৭ প্রাক্তন ক্রিকেট অ‌ধিনায়ক, সরকারের কাছে মানবিক পদক্ষেপের আর্জি  ◈ জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া ও গোলাম আযমের ছবি টাঙানোয় ক্ষুব্ধ ডাকসু, ‘মব’ উল্লেখ করে বিচার দাবি নেতাদের ◈ স্থানীয় নির্বাচনে মুখোমুখি জামায়াত-এনসিপি, ১১ দলীয় জোটে কি প্রভাব পড়বে? ◈ ঢাবির জগন্নাথ হলের পাশে পরপর দুই ককটেল বিস্ফোরণ ◈ গুজব ছড়ানো পেজ ও অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৭ দুপুর
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত, ঢাকার পরবর্তী হাইকমিশনারের নিয়োগে ভারতের সম্মতি মেলেনি!

এনডিটিভির প্রতিবেদন: এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকার মনোনীত ব্যক্তির নিয়োগে এখনো সবুজসংকেত দেয়নি ভারত। সাম্প্রতিক সময়ে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি নতুন করে তৈরি হওয়া আরেকটি জটিলতা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে পাঠাতে চায়। তবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার আগে ভারতকে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ দিতে হবে। এটি মূলত স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন। এখনো সেই অনুমোদন দেয়নি দিল্লি।

advertisement

আসাদ আলম সিয়াম কূটনীতিতে নতুন কোনো মুখ নন। তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট বা কূটনীতিক। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছর তিনি পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ভারতের অনুমোদন ছাড়া দিল্লিতে তাঁর নতুন দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করতে পারবে না বাংলাদেশ।

এর মধ্যে সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহর দায়িত্ব শেষ হওয়ার পথে। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর জেনেভায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেবেন তিনি। ফলে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পদটি দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।

advertisement

অ্যাগ্রিমেন্ট কী?

কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্য দেশে নিজের পছন্দের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারকে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারে না। যে দেশে তাঁকে পাঠানো হবে, সেই দেশকে আগে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করতে হয়।

advertisement

তবে স্বাগতিক দেশ কাউকে অনুমোদন না দিলে এর কারণ জানানো বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি কোনো দেশ চাইলে বিষয়টি নিয়ে নীরবও থাকতে পারে। বেশির ভাগ দেশই এই প্রক্রিয়াটি নীরবে সম্পন্ন করে। কারণ ব্যক্তিগত বা গোপন কোনো কূটনৈতিক জটিলতা প্রকাশ্য বিরোধে পরিণত হোক, কোনো পক্ষই সাধারণত তা চায় না। তাই টেকনিক্যালি দেখলে, ভারতের পক্ষ থেকে সিয়ামের অ্যাগ্রিমেন্ট আটকে রাখা সরাসরি প্রত্যাখ্যান নয়। তবে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যা কিছু ঘটছে, তার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সফর বাতিল, শীর্ষ সম্মেলনে অনুপস্থিতি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সেই আশাবাদ দ্রুত কমে গেছে। ভারত জানিয়েছিল, গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের কথা ছিল। তবে সেই সফর বাতিল হয়ে যায়।

এর আগে বিমসটেকের (বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট) চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। সেই আমন্ত্রণও তিনি গ্রহণ করেননি। তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশও অন্য কাউকে পাঠায়নি। এমনকি দিল্লিতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহ—যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি—তিনিও ওই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন না।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন।

শীর্ষ পর্যায়ে টানাপোড়েন, তবে আলোচনা চলছে

তবে দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি স্থবির হয়ে যায়নি। নিচের স্তরে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা এখনো চলছে। গত সপ্তাহেই দুই দেশের কর্মকর্তারা ঢাকায় দুই দিনের একটি বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে রেল যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয় এবং আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চলাচলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। এ ছাড়া গত সাত মাসের মতো সময়ে দুই দেশের বেশ কয়েকটি কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপও আবার সক্রিয় করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পর্যায়ে যতই সমস্যা থাকুক, দুই সরকারই দুই দেশের দৈনন্দিন সহযোগিতার কাঠামো সচল রাখতে আগ্রহী।

ভারতও এ ক্ষেত্রে নিজস্ব একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় দেশটি। জুনের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার পদমর্যাদা মন্ত্রিসভার সদস্যের সমান বা ক্যাবিনেট র্যাঙ্কের। কাগজে-কলমে হলেও এটি দুই দেশের সম্পর্ককে ভারত কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার চীন ও পাকিস্তানের দিকে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকে পড়ে। বিষয়টি নয়াদিল্লিতে ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আবার নতুন করে শুরু হতে পারে বলে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। কিছু অগ্রগতিও হয়েছিল। তবে পুরোনো উত্তেজনা এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার পথে এখনো বাধা হয়ে আছে।

শুধু গত এক মাসেই ভারত তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একটি ছিল রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য, অন্যটি ছিল ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। কোনো আমন্ত্রণেই সফর বা অংশগ্রহণ হয়নি। এর মধ্যে বাংলাদেশের পছন্দের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অনুমোদন এখনো না আসায় পরিস্থিতিতে আরও একটি প্রশ্নচিহ্ন যোগ হয়েছে।

দুই দেশ এখনো কথা বলছে। কারিগরি বৈঠক হচ্ছে, ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দিল্লিতে বাংলাদেশের শীর্ষ কূটনৈতিক পদে ঢাকার পছন্দের ব্যক্তিকে ভারত এখনো অনুমোদন না দেওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব এখনো যথেষ্ট রয়ে গেছে। অনুবাদ: আজকের পত্রিকা

  • সর্বশেষ