স্পোর্টস ডেস্ক : কারাবন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাত প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।
চিঠিতে সই করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সাত কিংবদন্তি, অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়া। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ইমরানের বিরুদ্ধে কোনও আইনি বা রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁরা অবস্থান নিচ্ছেন না। প্রাক্তন অধিনায়কদের বক্তব্য, একজন বন্দির প্রতি ‘মৌলিক মানবিকতা’র জায়গা থেকেই তাঁরা বিষয়টি তুলে ধরছেন।-- আজকাল
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতির মামলায় তাঁর সাজা হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘ বন্দিজীবন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ সময় তাঁর স্বাস্থ্য ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন পরিবারের সদস্য ও প্রাক্তন ক্রিকেটাররা।
প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় অধিনায়কদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইমরানের ছেলে ও বোনেরা একাধিকবার তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা পরিষেবা সীমিত থাকা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত যোগাযোগের সুযোগ না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এটি অবশ্য ইমরান খানের চিকিৎসা ও বন্দিদশা নিয়ে ক্রিকেটারদের প্রথম উদ্যোগ নয়। গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের ২২ জন প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ওই চিঠিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী একটি মেডিক্যাল বোর্ডকে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বোর্ডে ইমরানের পছন্দের চিকিৎসকদের রাখার কথাও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পুনর্বহালের আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরানের চিকিৎসা ও বন্দিদশা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। ইমরান খানের পক্ষে এবার অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বড় নামেরাও সরব হলেন। গ্রেগ চ্যাপেল গত মাসে পেনি ওংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যেও ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেছেন জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আক্রম ও মঈন খান। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও এর আগে ইমরানকে মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিককালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অধিনায়ক ব্রায়ান লারাও ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, যে ব্যক্তি একসময় পাকিস্তানের মানুষের কাছে আশা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিলেন, তিনি এখন এমন পরিস্থিতিতে রয়েছেন, যেখানে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অস্ট্রেলিয়ার সাত প্রাক্তন অধিনায়কের চিঠি তাই ইমরান খানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চলতি উদ্বেগকে আরও জোরালো করল। তবে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বাইরে থেকে তাঁর বন্দিদশায় মানবিক আচরণ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরই জোর দিয়েছেন তাঁরা।