শাহীন খন্দকারঃ প্রতি বছর বিশ্বে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারে ১৪ লক্ষ নারী আক্রান্ত হয় এবং বাংলাদেশে আক্রান্ত হয় ৮০ হাজার।
এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে লজ্জা ভয়কে জয় করে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গ সমূহকে অবহেলা না করে সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ এফ এম সিদ্দিকী।
মেডিস্থান হেলথকেয়ার-ওলকিউর, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং ভারতের ফরিদাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের যৌথ উদ্যোগে “ওভারিয়ান ক্যানসার বিয়ন্ড সার্জারি” শীর্ষক কন্টিনিউয়িং মেডিকেল এডুকেশন (সিএমই) প্রোগ্রামটিও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।
এসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের সামনে থেকে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আন্তর্জাতিক গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনা মাস এবং ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এর মাধ্যমে জনসচেতনা বৃদ্ধি পাবে। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নাই।
গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার হতে পারে এরকম ছোট ছোট উপসর্গকেও অবহেলা নয়। যদি একটু আগেই গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গ সমূহ চিহ্নিত করা যায় তবে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। নারীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, অধ্যাপক ডা. ফওজিয়া হোসেন, অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা, অধ্যাপক ডা. শিরিন আক্তার বেগম, সম্মানিত উপাচার্য মহোদয়ের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপকা ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে শহীদ ডা. মিল্টন হলে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের পরিচয় করিয়ে দেন অধ্যাপক ডা. লতিফা আক্তার। বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে ‘সার্জারি ইন ওভারিয়ান ক্যান্সার: ফ্রোম আরলি স্টেইজ ম্যানেজম্যান্ট টু সাইটু রিডাকশন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা শারমিন বিথি এবং ভারতের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস এর ডিরেক্টর ও হেড (গাইনোকোলজি) ডা. প্রীতিলতা চৌধুরী ‘বিয়ন্ড সাইকো রিডাকশন: ইভলভিং সার্জিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ অফ ওভারিয়ান ক্যান্সার-এইচআইপিইসি, পিআইপিএসি’ শীর্ষক প্রবন্ধ ও এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ও চেয়ারম্যান (অনকোলজি সার্ভিসেস) ডা. পুনীত গুপ্ত ‘আর উই রেডি ফর দা নেক্সট স্টেপ ইন বাংলাদেশ?’ শীর্ষক তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের ২০০টিরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর ভারতে বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একাডেমিক প্রোগ্রামের পাশাপাশি আজকে আয়োজিত ক্যানসার স্ক্রিনিং ও পরামর্শ ক্যাম্পে ৭০ জন নারী সেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর তাদের আন্তর্জাতিক টেলিকনসালটেশন প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেয়, যার মাধ্যমে রোগীরা বিদেশে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দ্বিতীয় মতামত নিতে পারেন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং ‘ক্যান্সার নিয়ে নীরব নয়, সচেতন হই। লজ্জা নয়, সময়মতো চিকিৎসাই হোক আমাদের শক্তি’ এই স্লোগান নিয়ে ইন্টারন্যাশাল গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার এ্যাওয়ারনেস মানথ (International Gynecological Cancer Awareness Month) উদ্বোধন করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে বিএমইউ এর গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও ভারতের মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর উদ্যোগে এবং এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহায়তায় ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই এবং স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।