সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বর্ণকারদের গড় আয়ু প্রায় ১২ বছর ৩ মাস কম। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালংকার তৈরির এলাকা তাঁতীবাজারের স্বর্ণ কারিগরদের নিয়ে করা এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁতীবাজারের প্রতি চারজন কর্মকারের মধ্যে প্রায় তিনজনই কোনো না কোনো অসংক্রামক রোগে ভুগছেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ স্বর্ণকার উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। ৫০ শতাংশের রয়েছে ডায়াবেটিস। এছাড়া ৩৫ শতাংশ কারিগর হৃদ্রোগে এবং ২০ শতাংশ কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছেন।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব কারিগরের গড় আয়ু সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১২ বছর ৩ মাস কম। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে পেশাগত কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকাকে দায়ী করা হয়েছে।
বিশেষ করে স্বর্ণালংকার তৈরির সময় সালফিউরিক অ্যাসিডের ধোঁয়ার সংস্পর্শে দীর্ঘসময় থাকতে হয় কারিগরদের। এ থেকে নিজেদের রক্ষার তেমন কোনো সুযোগও তাদের নেই।
এছাড়া সূক্ষ্ম কাজের সময় অসুবিধা হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্ষেত্রে ফ্যান চালানো যায় না। ফলে গরমের মধ্যেই কাজ করতে হয় তাদের। এতে নিয়মিত ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও জ্বরে ভোগেন অনেক কারিগর।
কর্মস্থলের ধুলাবালিও তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। দীর্ঘদিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার কারণে স্বর্ণকারেরা একদিকে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে তাদের কর্মক্ষমতা ও আয়ুও কমে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধ্যতামূলক নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র : আরটিভি