শিরোনাম
◈ আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম: ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল ◈ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ৩ জন ◈ দুই দিনে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ২৭ কোটি ঘনফুট ◈ ইউএইতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমাধান চান প্রবাসীরা ◈ মক্কায় হামলার সতর্কতা জারি করে প্রত্যাহার করল সৌদি আরব ◈ ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা! ◈ শিক্ষার্থীর ফোন হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে শিক্ষক বললেন, ‘নেক্সটে ফোন আনতে চিন্তা কইরো’ ◈ কেরানীগঞ্জে সেলুনে ফরহাদকে কুপিয়ে হত্যা, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল হামলার দৃশ্য ◈ গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ◈ তারেক রহমানকে ভারত কেন দুটি আমন্ত্রণ দিয়েছিল, জানাল দিল্লি

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ রাত
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউএইতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমাধান চান প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) চার হাজারের বেশি বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে। ফলে ছুটিতে দেশে এসে অনেকেই আর কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তবে কেন তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি আমিরাতকে জানিয়েছে এবং ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে।

advertisement

এদিকে বিপাকে পড়া বাংলাদেশিরা সমস্যা সমাধানে সরকারকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। দেশে ফিরে তাদের অনেকে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই ভিসা বাতিলের খবর পেয়েছেন।

এমনই একজন হলেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি ২৭ বছর ধরে আরব আমিরাতে থাকেন। গত ৭ এপ্রিল ছুটিতে দেশে এসেছেন। এরপর ২৪ জুলাই তিনি একটি ই-মেইল পান। সেখানে জানানো হয়, তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারকে আজাদ বলেন, ই-মেইলে ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

advertisement

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সমস্যা সমাধানের দাবিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ৩৫০ জন বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে আজাদও ছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে আসা অন্যরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের কেউ জুলাই থেকে ই-মেইল বা মোবাইল ফোনে বার্তা পেয়ে ভিসা বাতিলের বিষয়টি জানতে পারেন। কারও ক্ষেত্রে আমিরাতে থাকা স্পন্সররাও এ বিষয়ে নোটিশ পেয়েছেন।

advertisement

এক প্রবাসী জানান, ওই দেশে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনি সমস্যা নেই। তারপরও কেন তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি আরও জানান, আমিরাতে আমার দুটো ব্যবসা আছে। আমার স্ত্রীও সেখানে থাকেন। আজ আমার দুবাইয়ে থাকার কথা। কিন্তু এখন আমরা বিপদে পড়ে সমাধানের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। দুবাইয়ে ফিরতে না পারলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানান।

বাংলাদেশ ১৯৭৬ সাল থেকে আরব আমিরাতে কর্মী পাঠিয়ে আসছে। গত ৫০ বছরে দেশটি বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম বড় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ফেসবুক পোস্টে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে। বিষয়টি তার মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানে।

তিনি লিখেছেন, তাদের অনেকের সেখানে ব্যবসা ও দোকান আছে। বিষয়টা কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

পরে মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ভিসা বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবির মধ্যে আছে, তাদের পুনর্বাসন ও সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তারা। এছাড়া আরব আমিরাতে ফিরতে না পারলে উপযুক্ত অন্য কোনো দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতেও সরকারের উদ্যোগ চান তারা।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের আগের কর্মস্থলে ফেরার ব্যবস্থা করতে আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশির চেয়ারম্যান এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই বাড়িয়েছে।

তার ভাষ্য, সময়মতো ভিসা নবায়ন না করা বা কাগজপত্রে সমস্যা থাকার মতো বিষয়গুলো এখন আরও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, এমন বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে তিনি জানান, এসব কারণই যে ভিসা বাতিলের জন্য সরাসরি দায়ী, এমন কথা বলছি না। শেকিল চৌধুরী বলেন, সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইউএইর যাচাই-বাছাইয়ের মাত্রা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করা।

  • সর্বশেষ