মনিরুল ইসলাম : জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র এবং অতীত সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক অনিয়ম তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও দুঃশাসনের কারণে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে গেলেও বর্তমান সরকার তা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে পতিত সরকার খেলাপি ঋণের হার মাত্র ১১ শতাংশ দেখালেও ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিচালিত ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে। সেখানে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে তা কমে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে দুর্নীতির কলঙ্ক নিয়ে বিদায় নেওয়া শাসকগোষ্ঠীর পর জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছিল এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে সুশাসনের মাধ্যমে দেশকে সেই অপবাদ থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতা দখল করে জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয় এবং ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশকে ঋণখেলাপির বোঝা বহন করতে বাধ্য করা হয়।
বৈদেশিক ঋণের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের রেখে যাওয়া ঋণের দায়ভার এখন সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। তবুও ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেও গত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বর্তমান সরকার।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংক-বিমা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত সরকারের আমলে এসব খাতে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছিল। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে। তবে এই স্বাধীনতার অপব্যবহার না করে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদ নেতা বলেন, যে ভাষা পারিবারিক পরিসরে ব্যবহারযোগ্য নয়, তা জনপরিসরে ব্যবহার করা উচিত নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে গালিগালাজের অপসংস্কৃতি পরিহার করে একটি গঠনমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রপন্থী শক্তির ভেতরের বিভাজন বিতাড়িত অপশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই নীতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সফলভাবে পরিচালনায় ভূমিকা রাখায় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ সদস্য, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।