মনিরুল ইসলাম : ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবেশী দেশটির প্রতি ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে গুম, হত্যা, গ্রেফতার ও মামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি দাবি করেন। জনগণের আন্দোলনের মুখে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দেশ ত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হওয়া উচিত এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে দেশটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশের জন্য তাদের অবদান আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু এমন কাউকে শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়, রাজনৈতিক অপতৎপরতার সুযোগ দেওয়াও দুঃখজনক।”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চায়। তবে এ সম্পর্ক টেকসই করতে হলে উভয় পক্ষকেই আন্তরিকতা দেখাতে হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশ আর ‘ফেলানীর লাশ’ দেখতে চায় না। দেশের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতেও তিনি ভারতের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে সরকারকে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনও চুক্তি নবায়নের সময় বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, “স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে সমান মর্যাদায় আলোচনা হতে হবে। বাংলাদেশ আর কারও অধীন হয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। আমাদেরকে সেই জায়গায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে।”