মনিরুল ইসলাম : জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি না মেনে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার প্রবণতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নিয়মবহির্ভূতভাবে পয়েন্ট অব অর্ডারের নামে বক্তব্য দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ ধারা পড়ে শোনান এবং সদস্যদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
আজ বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর মাগরিবের নামাজের পর শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে একাধিক সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিলে স্পিকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেকোনো বিষয়ে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার নাম পয়েন্ট অব অর্ডার নয়; এটি কেবল সংসদের চলমান আলোচ্য বিষয়, শৃঙ্খলা ও কার্য পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে হবে।
অধিবেশনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তার এলাকায় সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এক ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহাদী দাবি করায় এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিজের পুরোনো ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ করেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট করেন।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান জ্বালানি খাতের একটি এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, কম দামের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও বেশি দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে এবং এতে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
এরপরই স্পিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। তার ভাষায়, “আমি বহুবার বলেছি—পয়েন্ট অব অর্ডার বা বৈধতার প্রশ্নের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আছে। কিন্তু আপনারা যে পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন, তার ৯৯ শতাংশই নিয়ম অনুযায়ী হয়নি।”
স্পিকার কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ ধারার উপধারা তুলে ধরে বলেন, কেবল সংসদের বিবেচনাধীন বিষয়েই পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা যাবে। তবে সংসদের শৃঙ্খলা বা কার্য পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রস্তাব ভোটে দেওয়ার সময় পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা সম্পূর্ণ অনুচিত। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, যা সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে।
সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, “আপনারা এই দেশের নেতা ও নীতিনির্ধারক। কার্যপ্রণালী বিধির ধারা পড়ে বুঝে তারপর পয়েন্ট অব অর্ডার তুলুন। চলমান বিষয় এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই বিধান ব্যবহার করুন।”
অধিবেশনের শেষ মুহূর্তে এভাবে সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সংসদের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন হয় এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।