মনিরুল ইসলাম : র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠনের উদ্যোগ জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “র্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি।”
আজ বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বিলের বিরোধিতা করে শফিকুর রহমান বলেন, এই আইনটি সাধারণ কোনো বিল নয়; বরং দেশের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি দাবি করেন, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা এতটাই প্রকট ছিল যে তা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই হাউসেই র্যাবের হাতে ভুক্তভোগী অনেকেই আছেন—আমি নিজেও। কেউ বেঁচে ফিরেছেন, আবার অনেকে নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন।” তিনি সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম ও মারজিয়া বেগম-এর পরিবারের ঘটনার উল্লেখ করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, র্যাব বিলুপ্তির দাবি ছিল সর্বমহলের—রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবাই এ বিষয়ে মত দিয়েছিল। কিন্তু সেই বাহিনীকে কার্যত অক্ষুণ্ন রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করে নতুন কাঠামো আনা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
সাম্প্রতিক এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পুরান ঢাকায় এক সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে তোলার চেষ্টা—যেখানে কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ছিল না—প্রমাণ করে বাহিনীর আচরণে পরিবর্তন আসেনি। তার ভাষায়, “মানুষ, কাঠামো, লজিস্টিক—সব একই রেখে শুধু নাম বদলালে সেটি নতুন কিছু নয়।”
তিনি বিলটি এই অধিবেশনেই পাস না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত পরামর্শ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে নতুনভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করারও দাবি তোলেন।
শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিল পাস হলে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সমালোচনা অব্যাহত থাকবে। তাই জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিলটি প্রত্যাহার করে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।