শুভংকর পোদ্দার, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পদ্মা নদী ভাঙন। গত ১০-১২ দিন ধরে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকায় তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙনে প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন আরও কয়েকশ' পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারা মানুষের খোঁজ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কেউ। জরুরি ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া হয়নি কোনো আপদকালীন ব্যবস্থাও। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে চরাঞ্চলের ভুক্তভোগী পরিবার সহ সাধারণ মানুষের মাঝে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে থেকে নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙন শুরু হয়। তবে, ভাঙনের পরিমাণ তীব্র ছিলো না। গত ১০-১২ দিন ধরে দ্রুত পানি বাড়ার কারণে এবং নদীর তীর এলাকায় তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এই কয়েকদিনে জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন।
কবিরপুর এলাকার সইজুদ্দিন মন্ডল বলেন, গত কয়েকদিনে এই এলাকার অন্তত ২৫০-৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙনে শুধু শফি মেম্বারের কলোনীতেই ৮০ পরিবার তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন। নদীর পাড়ে প্রচন্ড স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়েছে।
পেশায় মোটরসাইকেলচালক জিন্নাহ বলেন, ভাঙনের কথা বলতে গেলে বুকটা ফেটে আসে। একে একে পাঁচবার ভাঙনের শিকার হয়েছি। ভাঙতে ভাঙতে আর কিছু নাই। বুকটা ফেটে আসে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চরাঞ্চলের এই এলাকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা যেন পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।
জয়পুর এলাকার কুলছুম বেগম বলেন, প্রতিবছরই এই এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। এর আগে কিছু বালুর বস্তা ফেললেও তাতে কোনো কাজে আসেনি। সরকারের কাছে দাবি জরুরি ভিত্তিতে এই এলাকায় স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা হোক।
লেছড়াগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গতবছর আমার ইউনিয়নের প্রায় ১২০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এবছরেও গত কয়েকদিনে প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা বলেছে যে আমরা দেখছি কি করা যায়।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, আমরা করবো।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলের এলাকার জন্য স্থায়ীভাবে কোনো কিছু করা যায় কিনা সেটা যাচাই করতে ফিজিবিলিটি স্টাডির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এটাতে যে রিপোর্ট আসবে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, আমি সরেজমিনে যেতে না পারলেও সবসময়ই খোঁজখবর রাখছি। আজ-কালের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা যাবেন পরিদর্শনে। ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য ঢেউটিন বরাদ্দ এনেছি। সেগুলোও দ্রুত বিতরণ করা হবে।