মনিরুল ইসলাম : ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার আন্তরিক হলেও তা অবশ্যই সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়মিত কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ে বছরে অন্তত দুইবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে গত জুনে। সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা করা হয় এবং প্রয়োজন হলে কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় পর্যায়েও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর মধ্যেও সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে SAARC, BIMSTEC এবং BBIN কাঠামোর আওতায় বাণিজ্যিক বাধা কমানো, পণ্য ও সেবা পরিবহন সহজ করা এবং ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলছে। এছাড়া মানসম্মতকরণ, কাস্টমস সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।