শিরোনাম
◈ ব্রিকস সম্মেলনে ডলারের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা, কতটা সফল হবে জোট? ◈ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলা‌দে‌শের আপাতত জায়গা হচ্ছে না, বুঝিয়ে দিল পাকিস্তান! ◈ তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী, তবে আগে চূড়ান্ত করতে হবে এজেন্ডা: দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন ◈ সংবাদমাধ্যমের অবদানেই আজকের অবস্থান, ফ্রি মিডিয়ার আশ্বাস তথ্যমন্ত্রীর ◈ ভারতের কাছে ১৯ গোল হজম কর‌লো পাকিস্তান ◈ ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগের অভিষেকেই দলকে জেতালেন মে‌হেদী মিরাজ ◈ বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল সংসদে পাস ◈ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন ◈ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত হতে পারে পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল: পাউবো ◈ ‘বন্ধু’ আমিরাতের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ডাক, সঙ্গে আরও ৭ মুসলিম দেশ

প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৯ বিকাল
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এপিবিএন বিল পাস, আইনে বড় পরিবর্তন: তদন্ত ক্ষমতা পেল বাহিনী, বাড়ছে কার্যপরিধি

মনিরুল ইসলাম : জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি আধুনিক আইনি কাঠামো চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রথমবারের মতো এপিবিএনকে অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনের ফলে এপিবিএনের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন এবং এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো এখন একক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বাহিনীটি সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার, অপহরণ, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং ভূমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারবে।

আইনে এপিবিএন কর্মকর্তাদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরাধ কার্যবিধি, ১৮৯৮ এবং পুলিশ রেগুলেশনস, ১৯৪৩ অনুযায়ী ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তারা তদন্ত পরিচালনা করবেন। তদন্তের স্বার্থে বাহিনীটি নিজস্ব ডিটেনশন সেল, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনার আইনি অনুমতিও পেয়েছে।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বও এপিবিএনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

বাহিনীটির কাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এপিবিএন পরিচালিত হবে, যা পুলিশ মহাপরিদর্শকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে। পাশাপাশি সদর দপ্তরে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট গঠনের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে বাহিনীতে বাইরের পেশাদার বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনজীবী, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক বা ডেপুটেশনে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে বাহিনীতে যোগদানের পর সকল সদস্যের জন্য নির্ধারিত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিচারিক কাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন। আগের পুলিশ-প্রধান আদালত ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন আইনে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বিশেষ ও আপিল আদালতের বিধান রাখা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

  • সর্বশেষ