মনিরুল ইসলাম: দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।” তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।” অপশক্তি যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন জনগণের অধিকার হরণ করে একটি স্বৈরশাসন দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়েছে। এখন দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে পুনর্গঠনের সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।” বর্তমান সরকার ও বিএনপি ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতে বিশ্বাস করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে ভাতা তুলে দেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৬৪ জন সেবায়েত ও পুরোহিতকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।