বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (২০ জুন) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে জেলা প্রশাসককে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।
নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর চিঠি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শনিবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর চিঠি দিয়েছেন বলে শুনেছি। ফলে ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তন হচ্ছে। তাই এখন আমাকে নিয়ে আর কোনও আলোচনা-সমালোচনা নেই।’
এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রেস সচিব আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য অনেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তাই প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষা সচিবকে ডিও লেটার দিয়েছেন আগেই। তবু একটি গোষ্ঠী স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন।’
গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। এতে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ি’। অপরদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠন করা তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’। চারটি নতুন ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ি, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটির নাম নিয়ে মূলত বিতর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামে একটি ইউনিয়ন এবং তার দুই ছেলের নামে দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ি’। তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয় এবং নামকরণের প্রক্রিয়া ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত হয়।
সংসদে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির মাধ্যমে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করেছেন। নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। নিজের দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন দুটির নাম মিলে যাওয়াকে মিরাকেলি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারের সই করা চিঠি পেয়েছেন। এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ফোন করে নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দেন।
শনিবার বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পাওয়া চিঠিতে নবগঠিত ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করতে বলা হয়েছে। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।