শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রে নিঝুম মজুমদারকে হেনস্তা করে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের সামনে (ভিডিও) ◈ প্রধানমন্ত্রীর দেখা না পেয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ওপর ক্ষু'ব্ধ নেতাকর্মীরা, হেনস্তার চেষ্টা (ভিডিও) ◈ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন ৮ ইউএনও ◈ কুমিল্লায় সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আটক ◈ বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা সারাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে ◈ মোহাম্মদপুরে কয়েকশ’ লোকের হামলা-ভাঙচুর, ১৫ লাখ টাকা ও জমির দলিল লুটের অভিযোগ ◈ টিকটক পরিচয়ে কুমিল্লায় দেখা করতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষণের শিকার, অভিযুক্ত পলাতক ◈ গাইবান্ধায় যেভাবে কণ্ঠ নকল করে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার ফাঁদ পাতেন প্রতারক (ভিডিও) ◈ যুক্তরাজ্যে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি, আগস্টে প্রবৃদ্ধি ১০.৫৩%

প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ রাত
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইন্ডিয়াম কী, কেন এর রপ্তানিতে কড়াকড়ি করছে চীন? এটি কী কাজে লাগে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে ‘ইন্ডিয়াম’ নামক একটি বিশেষ ধাতুর রপ্তানি তদারকি জোরদার করেছে চীন। পরবর্তী-প্রজন্মের ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিরল ধাতুটি হয়তো বেইজিংয়ের অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্য অস্ত্র অর্থাৎ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। অনেক বৈশ্বিক ক্রেতাই এমনটা আশঙ্কা করছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশ্বের মোট ইন্ডিয়াম উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে চীন থেকে। এটি মূলত দস্তা বা জিংক শোধনের সময় উপজাত বা বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে উৎপাদিত হয়। সবচেয়ে নরম ধাতুগুলোর একটি ইন্ডিয়াম। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ডিসপ্লে এবং সোল্ডারিংয়ের কাজে এটি বেশি ব্যবহৃত হলেও, এটি ‘ইন্ডিয়াম ফসফাইড’ তৈরির প্রধান কাঁচামাল। আর এই ইন্ডিয়াম ফসফাইড ব্যবহার করা হয় এআই ডেটা সেন্টারগুলোর উচ্চ-গতির অপটিক্যাল চিপ তৈরিতে।

এর আগে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেইজিং এই ইন্ডিয়াম ফসফাইডকে তাদের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী-প্রজন্মের ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য এতটাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এনভিডিয়া সমর্থিত চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কোহেরেন্টের সিইও স্বয়ং মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বেইজিং সফর করেছিলেন।

যদিও ইন্ডিয়াম ধাতু হিসেবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিংয়ের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় স্থান পায়নি, তবুও চীনা কাস্টমসের কাছ থেকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি ও নজরদারির সম্মুখীন হচ্ছেন ক্রেতারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুজন বড় ক্রেতা এই কড়াকড়ির কথা নিশ্চিত করেছেন।

advertisement

চলতি বছরে এই প্রথমবার একজন ইউরোপীয় ক্রেতার কাছে কাস্টমস থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই ধাতুর সর্বশেষ ব্যবহারকারী কে এবং তারা ঠিক কোথায় অবস্থিত।

উত্তর আমেরিকার একজন ক্রেতা জানিয়েছেন, কাস্টমসের ছাড়পত্র পেতে আগে যেখানে মাত্র এক দিন লাগত, সেখানে এখন নথিপত্র বা পেপারওয়ার্ক সূক্ষ্মভাবে যাচাই করার কারণে বেশ কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে। তিনি এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে বেশ ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর কাছে অতিরিক্ত কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে রয়টার্সের কাছে কোনো ক্রেতাই নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। অবশ্য এই কড়াকড়ি সব জায়গায় সমানভাবে হচ্ছে না। অন্য দুজন ক্রেতা জানিয়েছেন, তাঁরা এই কড়াকড়ির কথা শুনলেও নিজেরা এখনো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েননি এবং এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো চালান আটকে দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বলছেন, এই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া মূলত আরও বড় নিষেধাজ্ঞা বা রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের একটি প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। চীনসহ অন্য যেসব দেশ পশ্চিমা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকে তারা মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং এর দুর্বল পয়েন্টগুলো ম্যাপিং বা চিহ্নিত করার জন্য এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।

এদিকে ইন্ডিয়ামকে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সম্ভাব্য দুর্বলতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এই কারণেই, যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স লজিস্টিকস এজেন্সি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের জন্য প্রায় ৪০৩ টন ইন্ডিয়ামের বড় মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। সেই সঙ্গে চলতি বছরের শুরুর দিকে কংগ্রেসে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও আহ্বান করেছে।

উল্লেখ্য, চীনে সরকারি ছুটির দিন থাকায় এই অতিরিক্ত কড়াকড়ির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের কোনো অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

 

  • সর্বশেষ