শিরোনাম
◈ বোয়িং থেকে পরমাণু সহযোগিতা, তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরে কী কী অর্জন হলো? ◈ বেদখল জমি ৩ মাসে ফেরত, সুফল পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা ◈ কোটি টাকার রাজস্বেও নাগরিক সুবিধাহীন শালবাহান হাট : টয়লেট-পানির সংকট, ময়লায় নাকাল ক্রেতা-বিক্রেতা ◈ নয়াদিল্লির বাইরে নতুন রূপরেখায় বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি সাজাচ্ছে বাংলাদেশ ◈ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ সরকারের ◈ বিদেশে যাওয়ার আগে দক্ষতা প্রশিক্ষণ নেই দুই-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশি কর্মীর, বেতন-বৈষম্যে পিছিয়ে ◈ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি, দ্রুতই দেওয়া হবে: প্রার্থীদের আশ্বস্ত করলেন শিক্ষামন্ত্রী ◈ খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, রুটি-চা এনে নিজের হাতে খাওয়াল ছোট্ট মেয়ে ◈ জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক থেকে আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক ◈ গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো গণতান্ত্রিক সরকারের পথ নয়: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৩ রাত
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধে মৃত রাজপুত্র ও সাধুদের কেন পাঠাচ্ছে রাশিয়া?

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনারা যখন আরেকটি শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তাদের জন্য আসছে এক অস্বাভাবিক ধরনের ‘সহায়তা’।

মস্কোর হয়ে ছয় শতাব্দীরও বেশি আগে যুদ্ধে লড়াই করা এক যোদ্ধা রাজপুত্রের দেহাবশেষের অংশ পাঠানো হয়েছে রুশ সেনাদের কাছে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাশিয়ার মধ্যযুগীয় শাসক ও যোদ্ধা দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষের একটি অংশ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। বর্তমানে ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত বিভিন্ন এলাকায় থাকা সামরিক ঘাঁটিতে সেটি ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে।

১৩৮০ সালে কুলিকোভোর যুদ্ধে বিজয়ের জন্য রাশিয়ায় ব্যাপকভাবে সম্মানিত দিমিত্রি দনস্কয়কে রুশ অর্থোডক্স চার্চের পক্ষ থেকে একজন ‘সাধু সেনাপতি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। মস্কো প্যাট্রিয়ার্কেটের সামরিক বিভাগ জানিয়েছে, এই ‘সাধু সেনাপতি’ অদৃশ্যভাবে রুশ সেনাদের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়াবেন।

advertisement

চার্চের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পাঠানো ধর্মীয় স্মারকটি দনস্কয়ের ডান হাতের একটি অংশ। কুলিকোভোর যুদ্ধে যে হাত দিয়ে তিনি তলোয়ার চালিয়েছিলেন, সেটিই এখন যুদ্ধরত রুশ সেনাদের কাছে ‘পবিত্র নিদর্শন’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ধর্মীয় নিদর্শন পাঠানোর বিষয়টি অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। তবে অর্থোডক্স খ্রিস্টান ঐতিহ্যে যুদ্ধে ধর্মীয় স্মারক নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আর ইউক্রেনে ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়া যুদ্ধের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করছে।

‘যুদ্ধকে ন্যায্য ও ঈশ্বর অনুমোদিত’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে রাশিয়া তার সামরিক অবস্থানকে ‘ন্যায্য’ এবং ঈশ্বরের অনুমোদিত হিসেবে তুলে ধরতে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করছে। এর ফলে ক্রেমলিন ও রুশ অর্থোডক্স চার্চের সম্পর্কও আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটির অর্থোডক্স খ্রিস্টান স্টাডিজ সেন্টারের যোগাযোগ পরিচালক ও ধর্মবিষয়ক গবেষক সের্গেই চাপনিন বলেন, রুশ রাষ্ট্র ও চার্চের মধ্যে এখন এমন ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে যে দুটিকে প্রায় আলাদা করে চেনাই কঠিন।

তিনি বলেন, “আমার দৃষ্টিতে, এই ঘনিষ্ঠতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

চাপনিনের মতে, পবিত্র ধর্মীয় নিদর্শন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রথা অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মে দীর্ঘদিনের। কিন্তু বর্তমান রাশিয়ায় এ ধরনের ধর্মীয় প্রতীক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “পবিত্র ও বস্তুগত- এই দুইয়ের সংমিশ্রণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর অবশ্যই প্রচারণা এটিকে কাজে লাগায়।”

দনস্কয়ের দেহাবশেষে সমকালীন রাজনৈতিক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষ বহনের মধ্যেও রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক বার্তা।
চাপানিন বলেন, দনস্কয় নিজে কোনও আগ্রাসী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন ‘স্বদেশের রক্ষক’। বর্তমান রুশ সরকারের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে- রাশিয়া আগ্রাসী নয়, বরং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করছে।

চাপানিন এই বয়ানকে ‘একটি সংহতিমূলক মিথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার মতে, ভিন্ন সময় ও যুগকে একসূত্রে যুক্ত করা এ ধরনের মিথ সাধারণ মানুষের চেতনায় শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে। ধর্মীয় নিদর্শনগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন সেগুলো এক ধরনের ‘জাদুকরী বস্তু’, যা যুদ্ধরত সেনাদের শক্তি জোগাতে পারে।

রাশিয়ার নিয়োগ করা দোনেৎস্ক ও মারিউপোলের অর্থোডক্স নেতা মেট্রোপলিটন ভ্লাদিমিরও বলেছেন, এই ধর্মীয় নিদর্শন সেনা ও বেসামরিক মানুষকে ‘আধ্যাত্মিক ও শারীরিক শক্তি’ জোগাবে এবং ‘শত্রুর ওপর বিজয়’ অর্জনে সহায়তা করবে।

দনস্কয়ই প্রথম নন
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া এর আগেও যোদ্ধা-সাধুদের ধর্মীয় নিদর্শন ব্যবহার করেছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যযুগীয় আরেক রুশ শাসক ও সামরিক গৌরবের প্রতীকে পরিণত হওয়া প্রিন্স আলেকজান্ডার নেভস্কির দেহাবশেষের অংশও রুশ সেনাদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

দনস্কয়ের দেহাবশেষ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর সময়টিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। গত আগস্টে মস্কোর ক্রেমলিনের আর্চেঞ্জেল ক্যাথেড্রালে সংস্কারকাজের সময় তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এর কয়েক সপ্তাহ আগে নেভস্কির ধর্মীয় নিদর্শন হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যাচাইহীন খবর ছড়িয়ে পড়েছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দনস্কয়ের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘একেবারেই অনন্য’ ও ‘চমৎকার আবিষ্কার’ বলে মন্তব্য করেন। তবে দেহাবশেষটি কোথায় ছিল, সে তথ্য জানা ছিল এবং সেটি সেখানেই সমাহিত ছিল।

রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রধান ও ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল ঘটনাটিকে ‘ঈশ্বরের বিশেষ ইচ্ছার নিদর্শন’ বলে বর্ণনা করেন।

তবে মস্কোয় জন্ম নেওয়া অর্থোডক্স যাজক ও ইতিহাসবিদ রেভারেন্ড আলেকজান্ডার জানেমোনেৎস এর সঙ্গে একমত নন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর স্থায়ীভাবে রাশিয়া ছাড়েন তিনি।

তার মতে, দেহাবশেষ উদ্ধারের সঙ্গে খ্রিস্টধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি ‘দেশপ্রেমের’ উদ্দেশ্যে খ্রিস্টধর্ম ও চার্চকে ব্যবহার করার ঘটনা।

তার ভাষায়, তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় উপাসক থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন পাওয়া একটি চার্চের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ মিলিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি দেহাবশেষ ব্যবহারের ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুর হিসাব-নিকাশ’ বলে অভিহিত করেন।

আমরা রুশ, ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে
যদিও কারও কাছে এসব কর্মকাণ্ড নিছক রাজনৈতিক প্রচারণা বলে মনে হতে পারে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অনেক রুশ সেনা বাস্তবেই ধর্মের দিকে ঝুঁকছেন।

ইউক্রেনে আগে যুদ্ধ করা এক সাবেক রুশ সেনা সিএনএনকে বলেন, “সবকিছু ভালো থাকলে আমাদের সবাই ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলি না। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে সবাই ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলে।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে অস্থায়ী গির্জা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযানে যাওয়ার আগে সেনারা প্রার্থনা করেন এবং যাজকেরা নিয়মিত সামরিক ইউনিট ও হাসপাতালে যান।

ওই সাবেক সেনা রাশিয়ায় প্রচলিত একটি কথার উল্লেখ করে বলেন, “যেমন ফিল্ড কিচেন থাকে, তেমনি সর্বত্র একজন যাজকও থাকা উচিত।”

আরেকটি জনপ্রিয় রুশ স্লোগান হলো- “আমরা রুশ। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে।”

বর্তমানে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা এক রুশ সেনাও যুদ্ধক্ষেত্রে যাজকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ, প্রার্থনা করা কিংবা কোনও পবিত্র বস্তু স্পর্শ করার সুযোগকে ‘গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক সহায়তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেনাদের ওপর মানসিক চাপও বাড়ছে। দোনবাসে দায়িত্ব পালনরত এক রুশ কমান্ডার সিএনএনকে বলেন, “সামগ্রিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ এবং সময় যত যাচ্ছে, তা আরও খারাপ হচ্ছে।”

নিরাপত্তার কারণে এসব সেনা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুমোদিত ছিলেন না।

সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচয়, কিন্তু নিয়মিত ধর্মচর্চা কম
যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে রুশ অর্থোডক্স চার্চের ধর্মীয় প্রভাব তার রাজনৈতিক প্রভাবের তুলনায় অনেক সীমিত বলে মনে করেন গবেষকেরা।

রাষ্ট্রীয় জরিপ সংস্থা ভিসিআইওএমের ২০২৬ সালের একটি টেলিফোন জরিপে দেখা গেছে, রাশিয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ নিজেদের অর্থোডক্স খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেন। ১৫ বছর আগে এই হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।

তবে কয়েকজন যাজক ও ধর্মবিষয়ক গবেষক সিএনএনকে জানিয়েছেন, রাশিয়ায় বাপ্তাইজিত অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ নিয়মিত ধর্মচর্চা করেন। অর্থোডক্স বড়দিনের প্রার্থনায় মানুষের উপস্থিতি নিয়ে রুশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যও এই প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, উগ্র ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রচারে রাশিয়ার চারটি শহরে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক ধর্মীয় শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সরকারি হিসাবে শুধু মস্কোতেই অংশ নেন এক লাখের বেশি মানুষ।

রাজধানীতে প্যাট্রিয়ার্ক কিরিলের নেতৃত্বে ওই শোভাযাত্রায় দনস্কয়ের দেহাবশেষের একটি অংশ বহন করা হয়।

তবে যাজক জানেমোনেৎসের মতে, এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রকে দেখানো যে, চার্চ কত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সংগঠিত করতে পারে।

ধর্মবিষয়ক গবেষক ও ইতিহাসবিদ কনস্তানতিন মিখাইলভ অবশ্য এই উপস্থিতিকে ‘সমুদ্রে এক ফোঁটা পানি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

১৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের দেশে এত মানুষের উপস্থিতি খুব বড় কোনও ধর্মীয় জাগরণের প্রমাণ নয় বলে অভিমত তার।

তার মতে, রাষ্ট্র ও চার্চের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে রুশ সমাজ এখনও অনেকটাই ধর্মনিরপেক্ষ।

মিখাইলভ বলেন, নিজেদের প্রভাব বাড়াতে রুশ অর্থোডক্স চার্চ ক্রেমলিনের কাছ থেকে অর্থ ও রাজনৈতিক সমর্থন পায়। বিনিময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বয়ানকে সমর্থন দিয়ে চার্চ ক্রেমলিনকে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনে সহায়তা করে। ফলে এটি পরস্পরকে শক্তিশালী করার একটি চক্রে পরিণত হয়েছে।

সেনাদের কীভাবে সহায়তা করবে চার্চ?
এই পারস্পরিক নির্ভরতার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক যাজকদের সংখ্যাও বেড়েছে বলে মনে করেন মিখাইলভ। তবে চার্চের ভেতরের সমালোচকদের কাছে এখানেই তৈরি হয়েছে একটি কঠিন প্রশ্ন- যুদ্ধরত সেনাদের একজন যাজকের কী ধরনের সহায়তা করা উচিত?

রাশিয়ার অ্যাপোস্টলিক অর্থোডক্স চার্চের যাজক রেভারেন্ড গ্রিগরি মিখনভ-ভাইতেনকো ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সহায়তা করেন। তিনি বলেন, ইউনিফর্ম পরা মানুষসহ সবার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, “আমরা কীভাবে তাদের সহায়তা করছি?”

তার মতে, একদিকে মানুষকে আধ্যাত্মিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না; অন্যদিকে তাদের কোনও বিভ্রমের মধ্যেও ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।

রুশ অর্থোডক্স চার্চ অবশ্য ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুতিন আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পর প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল উপাসকদের বলেছিলেন, “সামরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনও সেনা নিহত হলে সেটি এমন এক আত্মত্যাগ, যা তার ‘সব পাপ ধুয়ে দেয়’।”

একই ধর্ম, দুই দেশের যুদ্ধ
ইউক্রেনও দীর্ঘদিন ধরে রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ২০১৯ সালে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ অর্থোডক্স চার্চ থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন অর্থোডক্স চার্চ প্রতিষ্ঠা করে। বৈশ্বিক অর্থোডক্স চার্চের প্রধান কনস্টান্টিনোপলের প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ প্রথম ইউক্রেনের স্বাধীন অর্থোডক্স চার্চ প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি দেন।

মিখনভ-ভাইতেনকো বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন- দুই দেশেই অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০১৪ সালে মস্কো ক্রিমিয়া দখল করার পর তিনি রুশ অর্থোডক্স চার্চ ছেড়ে দেন।

তার মতে, একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে চার্চ এখন ‘তার সন্তানদের একে অপরকে হত্যা করার অনুমোদন দিচ্ছে’।

ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটির গবেষক চাপনিনও মনে করেন, এটি অর্থোডক্স ঐতিহ্যে শহীদ হওয়ার ধারণার সঙ্গে বড় ধরনের বিচ্যুতি। তার ভাষায়, রাষ্ট্রীয় প্রচারণার লক্ষ্যগুলোর কাছে ‘গসপেলের গুরুত্ব গৌণ হয়ে গেছে’।

যুদ্ধক্ষেত্রে ধর্মীয় নিদর্শন নিয়েও সংশয়
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সব রুশ সেনা ধর্মীয় নিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখছেন না।

ইউক্রেনের অধিকৃত পূর্বাঞ্চলের দোনবাসে দায়িত্ব পালন করা এক রুশ সেনা দনস্কয়ের দেহাবশেষ পাঠানোর ঘটনাকে ‘একবিংশ শতাব্দীর আমাদের সমস্যার জন্য খুবই অপ্রচলিত একটি সমাধান’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের চেয়ে এসব ধর্মীয় নিদর্শন সম্ভবত তাদের মায়েদের কাছেই বেশি প্রয়োজন- যেসব মা এই ‘সামরিক অভিযানে’ তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন।

যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, রাশিয়ায় ধর্ম, রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীর সম্পর্কও তত বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। দনস্কয়ের মতো মধ্যযুগীয় যোদ্ধা-রাজপুত্রের দেহাবশেষকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সেই সম্পর্কেরই এক প্রতীকী প্রকাশ- যেখানে ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

  • সর্বশেষ