আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কন্যাপণ প্রথার ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের বিনিময়ে নির্ধারিত হয়েছিল ২৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। শিশুটির বাবা আব্দুল বাকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কথিত বর সালাহ উদ্দিন পলাতক। পুলিশের দাবি, কন্যাপণের পুরো অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় বিয়েটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ঘটনার সঙ্গে শিশুটির বড় বোনের হত্যাকাণ্ডেরও যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ। ১৩ বছর বয়সী শুকরিয়ার বিয়ে হয়েছিল সালাহ উদ্দিনের ছেলে কামরানের সঙ্গে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে শুকরিয়াকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে কামরান। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, তিন বছরের শিশুটির বিয়ের পর সালাহ উদ্দিন আব্দুল বাকীর আরও আট বছর বয়সী মেয়েকেও বিয়ের জন্য চেয়েছিলেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। শুকরিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে শিশুটিকে ও তার মাকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পলাতক সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বেলুচিস্তানের ২০২৫ সালের শিশু বিবাহ নিরোধ আইনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। শিশু বিবাহে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ নারী ও কিশোরীর বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখের বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর বয়সের আগেই।