শিরোনাম
◈ পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা চুক্তি ◈ ৮০ লাখ টাকায় ৩ বছরের শিশুর বিয়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে! ◈ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি হচ্ছে ◈ এবার ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে সাদিক কায়েমকে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী! ◈ ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের হামলার ইঙ্গিত ◈ এশিয়ান গেমস ব‌্যাড‌মিন্টন: কাজাখস্তানের বিরু‌দ্ধে দাপুটে জয়ে শেষ ষোলোয় গৌরব-আয়মান ◈ ইন্দোনেশিয়াকে উড়িয়ে বাংলাদেশের টানা জয় ◈ ফসল কাটার মৌসুমে বিদেশি কৃষিশ্রমিকদের জরুরি ভিত্তিতে ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ◈ পুলিশের কেউ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:১৮ দুপুর
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:১৮ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা চুক্তি

২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

মনিরুল ইসলাম: পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

আজ শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ এই চুক্তিতে সই করেন। স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে সহযোগিতার যে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান চুক্তিটি তারই ধারাবাহিকতা।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন জানান, দুই দেশের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মরিসন।

advertisement

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ইতিবাচক খবরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছানো নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার এই নতুন চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও আকাশপথের ছাড়পত্র না পাওয়ায় চালানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দরে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের নিশ্চিত করেন যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশপথ উন্মুক্ত ছিল না। ফলে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছে এবং পরবর্তী সময়সূচি পরে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।’

তবে ঠিক কোন দেশের আকাশপথ ব্যবহার না করার কারণে বা বাধার কারণে এই ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ও বিদ্যমান অগ্রগতি

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটের প্রতিটি তৃতীয় প্রজন্মের ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিঅ্যাক্টর থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জন্য ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সফলভাবে রসাটমের নোভোসিবির্স্ক কারখানা থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে ঢাকায় আনা হয়।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারিতে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার সুরক্ষিত ‘গ্রিন করিডর’ দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতা চুক্তি এবং রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র—উভয় উদ্যোগই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। 

  • সর্বশেষ