অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কেউ বাধা দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
শনিবার (২০ জুন) আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ফলে ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে এবং গ্রাহকদের লেনদেনও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ এমনটি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইন বলেন, ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। আমানত জমা বাড়ছে এবং আমানত উত্তোলনের চাপও কমেছে। ব্যাংকের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অযথা বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্যই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে তারল্য সংকট এবং বিভিন্ন গুজবের কারণে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক গ্রাহক একসঙ্গে আমানতের টাকা তুলে নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক থেকে গত ১ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৯ দিনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা।
ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। পরবর্তী দুই দিনে আরও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি, তারল্য সহায়তা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ইসলামী ব্যাংক দ্রুতই পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে।