শিরোনাম
◈ এবার যৌথভাবে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির ◈ বন উজাড় বাড়ছে, খাদ্য ও জলবায়ু নিরাপত্তা নিয়ে এফএওর বড় সতর্কবার্তা! ◈ এবার যুক্তরাজ্যকে সরাসরি পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলো রাশিয়া! ◈ প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছরের মেয়াদসীমা নিয়ে যে মতামত এলো ◈ রাজস্ব আদায় কম, ব্যাংক ঋণে সরকারের নির্ভরতা বাড়ছে ◈ অভিমান করে লাপাত্তা ৩ কিশোরী অতঃপর... ◈ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সি‌লের পরবর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল?  ◈ কারাগারে কয়েক বন্দির জন্য লাক্সারি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ায় ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত ◈ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে কী হচ্ছে ◈ ২০২৭ সালের হজে নতুন প্যাকেজ, এক চুক্তিতেই থাকা-খাওয়া-যাতায়াত

প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬, ০৩:৩৬ দুপুর
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

২১ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: কূটনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

মনিরুল ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন। আগামী ২১ জুন শুরু হতে যাওয়া এ সফরকে দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সফরের প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাবেন। সেখানে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। পুত্রজায়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পাশাপাশি একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং দেশটির ব্যবসায়ী ও করপোরেট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিশেষ করে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা এবং বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে যাবেন, যেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF)-এর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

advertisement

সফরের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া সরকারের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্ভাব্য অর্জন

  • নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি
  • বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ
  • শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ
  • বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার
  • আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা

মালয়েশিয়া সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচি

  • প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
  • পুত্রজায়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা
  • একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর
  • যৌথ সংবাদ সম্মেলন
  • রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ
  • ব্যবসায়ী ও করপোরেট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF)-এর সম্মেলনে অংশগ্রহণ
  • আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জলবায়ুবিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্য প্রদান
  • বিভিন্ন বৈশ্বিক নেতার সঙ্গে বৈঠক
  • চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ