মনিরুল ইসলাম: দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৩তম ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন চলচ্চিত্র সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। আজ সোমবার ২৬ অক্টোবর রাজধানীতে চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা চলচ্চিত্রকার ও সাংবাদিক ফজলুল হকের সৃষ্টিশীল জীবন, সংগ্রাম এবং দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিকদের জন্য তাঁর কর্মময় জীবন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফজলুল হককে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় প্রয়াত শিশুসাহিত্যিক আমিরুল ইসলামকেও স্মরণ করা হয়।
চলচ্চিত্র ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি
২০০৪ সালে কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন প্রবর্তিত হয় ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার। চলচ্চিত্র পরিচালনা ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে পুরস্কারটি দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুণী নির্মাতা ও সাংবাদিকদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এ পুরস্কার একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিকদের একত্র করা এবং তাঁদের অবদানকে সম্মান জানানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মাহমুদা চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে সবার আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটি তাঁর কাছে আনন্দের ও ভালো লাগার।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্র নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন তাঁর চলচ্চিত্র ‘রইদ’ প্রসঙ্গে বলেন, ছবিটি নির্মাণের অনুপ্রেরণা এসেছে তাঁর মায়ের গল্প থেকে।
নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান
অনুষ্ঠানে আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নিয়ে একটি ক্লাব গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ফজলুল হক নতুন প্রজন্মের জন্য যে পথ তৈরি করে গেছেন, সেই পথ ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রজন্মকে তাঁর কর্ম ও অবদানের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই তাঁকে যথাযথভাবে স্মরণ করা সম্ভব।
চলচ্চিত্র পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং বাচসাসের সাবেক সভাপতি ও কবি রাজু আলীমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী নতুনদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
চলচ্চিত্র প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান বলেন, তাঁরা ফজলুল হকের দেখানো পথেই এগিয়ে চলেছেন। সিনেমার প্রতি ফজলুল হকের গভীর ভালোবাসা ও চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য তাঁর ছেলে ফরিদুর রেজা সাগরও বহন করে চলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফজলুল হক বৃত্তি চালু
এবারের আয়োজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগে ফজলুল হক বৃত্তি প্রবর্তন। চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই বিভাগে ফজলুল হককে নিয়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী শুভ সেনকে ক্রেস্ট ও অর্থমূল্য দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ফজলুল হকের জীবন, কর্ম ও আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করার প্রত্যয় উঠে আসে পুরো আয়োজনজুড়ে।
চলচ্চিত্রের ইতিহাস সংরক্ষণ, সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি এবং নতুন প্রতিভাকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার গুরুত্ব ধরে রাখছে। এবারের আয়োজনে পুরস্কার প্রদান, বৃত্তি চালু এবং তরুণ লেখককে সম্মাননার মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন ঘটেছে।
উল্লেখ, ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠপুত্র ফরিদুর রেজা সাগর শিশু সাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. ও চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ছোট ছেলে ফরহাদুর রেজা প্রবাল বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্থপতি, বড় মেয়ে কেকা ফেরদৌসী বিশিষ্ট রন্ধনবিদ ও ছোট মেয়ে ফারহানা মাহমুদ কাকলী।