শিরোনাম
◈ ১৪টি ১২ তলা ভবন নিয়ে নতুন সচিবালয়, থাকছে যেসব সুবিধা ◈ কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৯০ কোটি টাকা দেবে কানাডা ◈ মাঝ আকাশে দরজা খুলে ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ, রোগীর মৃত্যু ◈ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বিস্তারিত যে তথ্য চাইলো ঢাকা ◈ মেসির জোড়া গোলে ইন্টার মিয়ামির দাপু‌টে জয় ◈ চিকিৎসা নিতে এসে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঢামেকের রোগীরা ◈ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি, স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি ◈ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার, যেভাবে মিলবে ◈ বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ◈ মাতারবাড়ী বন্দরকে শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে চায় জাপান, যুক্ত হবে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল

প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৭ রাত
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যে কবিতার জন্য ব্রিটিশদের হাতে কারাবন্দি হয়েছিলেন নজরুল

একটি কবিতা, কয়েকটি তীব্র পঙক্তি আর তাতেই কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানিয়ে লেখা কাজী নজরুল ইসলামের ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা তাঁকে দাঁড় করিয়েছিল রাজদ্রোহের অভিযোগে ঔপনিবেশিক সরকারের বিচারের মুখোমুখি।

কবিতার শক্তিকে ভয় পেয়ে ব্রিটিশ সরকার কবিকে কারাগারে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তাঁর কলম থামাতে পারেনি। বরং কারাগারের অন্ধকারেই আরো দীপ্ত হয়ে উঠেছিল তাঁর প্রতিবাদী সত্তা।
১৯২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস।

শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজে মেতে উঠেছিল অবিভক্ত বাংলা। ঠিক সেই সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার আগমনী সংখ্যায় ছাপা হয় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি। তেইশ বছরের দুর্দমনীয় কবি নজরুলের লেখা কবিতাটি শুধু দেবী দুর্গার আবাহন ছিল না। এতে ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে স্বাধীনতার এক উদাত্ত আহ্বান।

তবে এই কবিতা প্রকাশের কারণেই কবির বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অভিযোগ আনা হয় এবং বিদ্রোহী কবিকে যেতে হয় কারাগারে।

Advertisement

কী ছিল ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতায়?

দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার দ্বাদশ সংখ্যায় ছাপা হয় কাজী নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’। এ কবিতায় নজরুল ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীকে পরাক্রমশালী ‘অসুর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তিনি শুধু মাটির মূর্তিতে আবদ্ধ না থেকে, অসুর বিনাশের জন্য জাগ্রত হন। ভারতবাসীকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করতে তিনি তাঁর কবিতায় আহ্বান জানান।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সে সময়ে রচিত কবিতাটি ছিল মূলত ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার এক সুনিপুণ রাজনৈতিক ডাক।

ঐতিহাসিক এই কবিতায় কবি নজরুল লেখেন, “আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি-আড়াল? স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাড়াল। দেবশিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসি, ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী? দেব-সেনা আজ টানছে ঘানি তেপান্তরের দ্বীপান্তরে, রণাঙ্গনে নামবে কে আর, তুই না এলে কৃপাণ ধরে?”

‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা প্রসঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক এবং নজরুল গবেষক মজিদ মাহমুদ বাসসকে বলেন, ‘আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা লেখার দায়ে আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাঁর এই কারাবরণ ঔপনিবেশিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির এক ঐতিহাসিক সাক্ষ্য। তবে নজরুলের কারাবরণ আমাদের মনে এই উপলব্ধি জাগিয়ে দেয় যে কবিকে কারাগারে নেওয়া যায়, কিন্তু তার মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে বন্দি করা যায় না।

কবিতা ও রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় নজরুলের আপসহীন অবস্থান তাঁকে ঔপনিবেশিক সরকারের রোষের মুখে ঠেলে দেয় উল্লেখ করে নজরুল গবেষক মজিদ মাহমুদ আরো বলেন, আনন্দময়ীর আগমনের মতো কবিতা এবং ধূমকেতুর সাহসী সম্পাদকীয় বাংলা সাহিত্যের নতুন ভাষা ও চেতনার সঞ্চার করে। একই সঙ্গে এগুলো পরাধীন মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে তীব্র করে তোলে। আর নজরুলের কাছে সাহিত্য চর্চা ও মুক্তিসংগ্রাম বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল না। তাঁর কবিতার প্রতিবাদ ও কারাগারের অনশন একই নৈতিক দৃঢ়তায় প্রকাশ পেয়েছিল।

‘ধূমকেতু’ পত্রিকা বাজেয়াপ্ত

‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটির তীক্ষ্ণ ও বিপ্লবী ভাষা তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর ভিত নাড়িয়ে দেয়। কবিতাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটে যেতে পারে এই আশঙ্কায় ১৯২২ সালের ৮ নভেম্বর পুলিশ কলকাতার ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার কার্যালয়ে হানা দেয়।

পরবর্তীকালে ব্রিটিশ সরকার ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার ওই সংখ্যাটি বাজেয়াপ্ত করে।

নজরুলের যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, চন্দ্রবিন্দু গ্রন্থগুলো বাজেয়াপ্ত করার উদাহরণ টেনে নজরুল গবেষক মজিদ মাহমুদ বলেন, নজরুলের প্রতিবাদী সাহিত্যকে ঔপনিবেশিক সরকার কতটা বিপজ্জনক মনে করত, তার বই বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাগুলো তার প্রমাণ ।

কবিতার জন্য গ্রেপ্তার কবি

১৯২২ সালের ৮ নভেম্বর নজরুলের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই পরোয়ানা জারির সময় নজরুল কলকাতায় ছিলেন না। তিনি তখন ত্রিপুরা জেলার কুমিল্লায় (বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা) অবস্থান করছিলেন। ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর কুমিল্লার ঝাউতলার মোড় থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর নজরুলকে কড়া পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে এসে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা হয়।

ঐতিহাসিক রাজবন্দীর জবানবন্দী

কলকাতার চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নজরুলের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলার বিচার শুরু হয়। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কবি নজরুল ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি লিখিত জবানবন্দী পাঠ করেন। নজরুলের সেই ঐতিহাসিক জবানবন্দীটি ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে অমর হয়ে আছে।

কবি নজরুল ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ গ্রন্থে উল্লিখিত ঐতিহাসিক সে জবানবন্দীতে কবি নজরুল বলেন, ‘আমার ওপর অভিযোগ আমি রাজদ্রোহী। তাই আমি আজ রাজকারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত। আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত। আমার বাণী সত্যের প্রকাশিকা, ভ