শিরোনাম
◈ ইউরোপজুড়ে রাজপথে জেন-জি, কেন বাড়ছে তরুণদের ক্ষোভ? ◈ আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা ◈ নিলামে শরিফুলকে পেতে ২ কোটি ৩০ লাখ সিটিজেনস ব্যাংকের, তাসকিনকে ওয়ালটনের ২ কোটি ১০ লাখ  ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজ, খেলবেন রিশাদও ◈ জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে যাত্রী সংকটে আঞ্চলিক বিমানবন্দর ◈ ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি ◈ নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত? ◈ তানজিম সাকিবের নাম তোলা হয়‌নি ডি থ্রি ট্রফির নিলামে ◈ খাদ্যশস্য সংরক্ষণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২১ রাত
আপডেট : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে চারতলা ভবন ভাঙা দিয়ে শুরু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দুইপাশে গড়ে তোলা অবৈধ রিসোর্ট কটেজ-রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে যৌথ বাহিনী।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উখিয়ার ইনানী সৈকতের নৌবাহিনীর সেতুর কাছে চারতলা একটি রিসোর্ট ভবনে ভাঙা দিয়ে শুরু হয় এই অভিযান। এরপর একে একে মেরিন ড্রাইভের নির্মিত সকল অবৈধ রিসোর্ট-কটেজ উচ্ছেদ করা হবে দাবী করেছে প্রশাসন। 

গেল ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার ৯দিন সোমবার প্রথম মেরিন ড্রাইভে উচ্ছেদ অভিযানে নামে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর যৌথ অভিযান।

প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরের ইনানীর নৌবাহিনীর জেটির পূর্বপাশে তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপের অবস্থান। এর উত্তর পাশে আরেক তারকা হোটেল বে ওয়াচ। দুই তারকা হোটেলের মধ্যভাগে নির্মাণধীন চারতলা রিসোর্ট ভবনটি। সকাল ১১ টা থেকে এই ভবনটিতে যায় প্রশাসন। এরপর দুপুরে ভবনের নিচের এবং দুইপাশে ১০-১২টি দোকানঘর গুড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর চারতলা ভবনের কাঁচের গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। এরপর মুলভবনের পিলার ভাঙার কাজ শুরু হয়।

Advertisement

অভিযানে অংশ নেওয়া কউকের সচিব সানজিদক বেগম বলেন, অবৈধভাবে নির্মিত চারতলা রিসোর্ট ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে ২০২৫ সাল থেকে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সাড়া মিলেনি। রিসোর্ট ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, একটি ভবন যতগুলো আইন আছে তার কোনটিই মানেনি ভবন মালিক। ভবন নির্মানের জন্য অনাপত্তি পত্র সহ কোন কাগজই নেই তাদের।

তবে রিসোর্টের মালিক শহিদুল হক বলেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়েই নির্মান কাজ শুরু করা হয়। ছয় কোটি টাকা খরচ করে চারতলা করা হয়। ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থতলায় পযটকদের থাকার বেশ কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়। পুরো ভবনে কোটি টাকার গ্লাস লাগানো হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধনের কথা ছিল। তার আগে সবকিছু গুড়িয়ে দেওয়া হলো।

নোটিশের জবাব না দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শহিদুল হক বলেন, চারটি নোটিশের জবাব তাঁরা দিয়েছেন। ভবন নির্মাণের বিপরীতে কাগজপত্রও আছে, কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভে ২০০টির মত রিসোর্ট-কটেজ-রেস্তোরাঁ রয়েছে। বেশির ভাগ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। কোনোটির বৈধ অনুমোদন নেই। সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কউকের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বারবার নোটিশ করার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ার যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে অবৈধ কোনো স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না। 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ৮০ কিলোমিটারে মেরিন ড্রাইভের দুইপাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট-কটেজসহ স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। যে কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট-কটেজ-রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, কউকের অনুমোদন না পেলে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি একাধিক দপ্তরের অনুমতি পায় না। পযটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা অবৈধ রিসোর্ট কটেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাগজপত্র যাছাই করছি। পাশাপাশি অবৈধভাবে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হচ্ছে।

  • সর্বশেষ