ভ্রমণ কিংবা পারিবারিক আনন্দ-উৎসবে দীর্ঘ সময় বাইরে কাটাতে গেলে অনেকেরই একটি অভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়— কারও শরীরে মশার আক্রমণ বেশি, আবার কেউ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকেন। একই জায়গায় বসে থেকেও দেখা যায়, কেউ একের পর এক কামড় খাচ্ছেন, আর কেউ প্রায় অক্ষত। প্রশ্ন হলো, মশা কি বেছে বেছে মানুষকে কামড়ায়? আর করলে, তার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণই বা কী?
অনেকের ধারণা, শরীর থেকে কতটা কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের হয়, তার ওপর মশার কামড় নির্ভর করে। আবার কেউ বলেন, জামাকাপড়ের রংও নাকি এতে প্রভাব ফেলে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। মশার কামড়ের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করে—গায়ের স্বাভাবিক গন্ধ এবং জিনগত গঠন।
কেন শুধু স্ত্রী মশাই কামড়ায়?
মশাদের মধ্যে কেবল স্ত্রী মশারাই মানুষকে কামড়ায়। কারণ ডিম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তারা রক্ত থেকেই সংগ্রহ করে। পুরুষ মশার এই প্রয়োজন নেই। স্ত্রী মশা কীভাবে তাদের শিকার খুঁজে নেয়, সেটি বোঝা গেলে স্পষ্ট হয় কেন কেউ বেশি কামড় খায়, আর কেউ কম।
কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও গায়ের গন্ধের ভূমিকা
স্ত্রী মশার রয়েছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘ্রাণেন্দ্রিয়, যা কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও মানুষের শরীর থেকে নির্গত গন্ধ শনাক্ত করতে পারে। যাদের শরীর থেকে তুলনামূলক বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, মশা সহজেই তাদের অবস্থান টের পায় এবং সেদিকেই ছুটে আসে।
সাধারণত যাদের ওজন বেশি, তাদের শরীর থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমনও বেশি হয়। ফলে তারা মশার সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
অন্তঃসত্ত্বা নারী ও পরিশ্রমী মানুষ কেন বেশি ঝুঁকিতে?
গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের শরীর থেকেও বেশি মাত্রায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। সে কারণে তাদের মশার কামড় তুলনামূলক বেশি খেতে হয়।
এ ছাড়া শরীরচর্চা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর মশার কামড়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ তখন ঘামের সঙ্গে ল্যাকটিক অ্যাসিড বের হয় এবং শরীরের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায়। এই দুইটি বিষয়ই মশাকে আকর্ষণ করে, ফলে তারা দ্রুত মানুষের উপস্থিতি টের পায়।
জিনগত কারণ ও রক্তের গ্রুপ
মশার কামড়ের পেছনে জিনগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু মানুষের ত্বক থেকে এমন কিছু রাসায়নিক নির্গত হয়, যা মশার জন্য সহজে শনাক্তযোগ্য। এই বৈশিষ্ট্যটি মূলত জিনের মাধ্যমে নির্ধারিত।
এ ছাড়া বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ‘ও’ গ্রুপের রক্তের মানুষকে মশা তুলনামূলক বেশি কামড়ায়। বিপরীতে ‘এ’ গ্রুপের রক্তের মানুষের ক্ষেত্রে মশার আকর্ষণ সবচেয়ে কম।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস