শিরোনাম
◈ চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস ◈ ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা ◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৪ বিকাল
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গ্যাসের বিকল্পে কোনটি ভালো: ইন্ডাকশন নাকি ইনফ্রারেড চুলা কিনবেন, কোনটিতে কী সুবিধা

বর্তমান সময়ে গ্যাসের দাম, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি প্রযুক্তি হলো ইন্ডাকশন কুকটপ ও ইনফ্রারেড কুকটপ। বাইরে থেকে দুটোই একই রকম মনে হলেও, ভেতরের প্রযুক্তি, কাজের ধরন, বিদ্যুৎ ব্যবহার ও রান্নার সুবিধায় রয়েছে বড় পার্থক্য। তাই কেনার আগে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত তা জানা জরুরি।

ইন্ডাকশন চুলা কীভাবে কাজ করে: ইন্ডাকশন চুলা চুম্বকীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে। এতে চুলার ওপর রাখা পাত্রের তলায় সরাসরি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে তাপ তৈরি হয়। অর্থাৎ চুলা নিজে গরম হয় না, গরম হয় কেবল হাঁড়ি বা কড়াইয়ের তলদেশ। ফলে খুব দ্রুত খাবার গরম হয় এবং বিদ্যুৎও তুলনামূলক কম খরচ হয়।

সুবিধা: ইন্ডাকশন চুলায় রান্না খুব দ্রুত হয়। পানি ফুটানো বা তরকারি রান্না করতে কম সময় লাগে। যেহেতু তাপ সরাসরি পাত্রে তৈরি হয়, তাই শক্তি অপচয় কম হয়। চুলার উপরের কাচ খুব গরম হয় না, ফলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কম।

অসুবিধা: সব ধরনের হাঁড়ি পাতিল এতে কাজ করে না। লোহার বা ম্যাগনেটযুক্ত পাত্র লাগবে। অ্যালুমিনিয়াম বা কাচের বাসন ব্যবহার করা যায় না, যদি না তলায় বিশেষ স্তর থাকে। এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না বন্ধ হয়ে যায়।

Advertisement

ইনফ্রারেড চুলা কীভাবে কাজ করে: ইনফ্রারেড চুলা তাপ রশ্মির মাধ্যমে কাজ করে। চুলার ভেতরে থাকা হিটিং এলিমেন্ট লাল হয়ে জ্বলে ওঠে এবং সেই তাপ সরাসরি পাত্রের নিচে লাগে। গ্যাসের চুলার মতোই এটি তাপ ছড়িয়ে রান্না করে, তবে আগুন ছাড়া।

সুবিধা: এই চুলায় যে কোনো ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়। অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, স্টিল, মাটির পাত্র-যে কোনোটাই ব্যবহার করতে পারবেন। এই চুলার জন্য আলাদা করে হাড়ি-পাতিল কিনতে হয় না। বিদ্যুৎ ওঠানামা হলেও এটি তুলনামূলক স্থিতিশীলভাবে কাজ করে।

অসুবিধা: ইন্ডাকশনের তুলনায় এটি বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। তাপ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে রান্নাঘর গরম হয়। চুলার কাচ অনেক বেশি গরম হয়ে যায়, তাই সাবধান না হলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিদ্যুৎ খরচ ও দক্ষতা: ইন্ডাকশন চুলা প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ শক্তিকে সরাসরি রান্নায় ব্যবহার করে, তাই বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলা প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ দক্ষতায় কাজ করে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে ইন্ডাকশন বেশি সাশ্রয়ী। এতে মাসে বিদ্যুৎ খরচ কম হয় ইনফ্রারেড চুলার চেয়ে।

রান্নার গতি ও নিয়ন্ত্রণ: ইন্ডাকশন চুলায় তাপ নিয়ন্ত্রণ খুব নিখুঁত। দ্রুত গরম হয় এবং চুলা বন্ধ করলেই তাপ বন্ধ হয়ে যায়। ইনফ্রারেডে তাপ ওঠানামা তুলনামূলক ধীর, তাই হালকা আঁচে রান্না করতে একটু সময় লাগে।

নিরাপত্তা দিক: নিরাপত্তা দিক বিবেচনা করলে ইন্ডাকশন চুলা তুলনামূলক বেশি নিরাপদ, কারণ পাত্র না রাখলে এটি গরমই হয় না। ঘরে শিশুরা থাকলে এটি বেশি ভালো। ইনফ্রারেডে চুলার পৃষ্ঠ অনেক গরম হয়, তাই অসাবধানতায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি।

কোনটি আপনার জন্য ভালো?: ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড দুটোরই নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আপনার রান্নার অভ্যাস, বিদ্যুৎ খরচ, বাসনের ধরন ও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিকটি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি আপনি দ্রুত রান্না, কম বিদ্যুৎ খরচ এবং বেশি নিরাপত্তা চান, তাহলে ইন্ডাকশন চুলা ভালো পছন্দ। তবে যদি আপনি পুরোনো সব বাসন ব্যবহার করতে চান এবং রান্নার ধরন গ্যাসের মতো রাখতে চান, তাহলে ইনফ্রারেড চুলা সুবিধাজনক। উৎস: জাগোনিউজ24

 

  • সর্বশেষ