শিরোনাম
◈ চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস ◈ ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা ◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর

প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১৩ সকাল
আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা

দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্রতারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিনিয়োগের প্রস্তাব, শেয়ারের দাম বাড়ার গুজব এবং দ্রুত বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭ বিলিয়ন বা ৭০০ কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ৮১টি মেসেঞ্জার গ্রুপ, ১ হাজারের বেশি পেজ এবং ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ অনুষ্ঠানের এসব তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, বিনিয়োগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব, দ্রুত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা এবং যাচাই-বাছাই না করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করা জরুরি।

আলোচনায় ডিজিটাল প্রতারণার কয়েকটি ধরন তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অল্প সময়ে বিপুল মুনাফা বা লটারিতে পুরস্কার জেতার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নির্দিষ্ট শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়বে কিংবা প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য রয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার চালানো এবং আসল ব্রোকারেজ হাউস বা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ চুরি করা। চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল সোসাইটির সভাপতি মাহাতাব ওসমানী বলেন, কোনো ব্যক্তি বা

প্রতিষ্ঠান যদি বিনিয়োগে ধারাবাহিকভাবে প্ল্যাটফর্ম দুই অঙ্কের উচ্চ হারে মুনাফার নিশ্চয়তা দেয় এবং কখনো লোকসান হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে তা সন্দেহের চোখে দেখা উচিত। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের নিশ্চয়তা বাস্তবসম্মত নয়। তাই অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফুর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করেই শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও আর্থিক বিবরণী না পড়া এবং নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ উপেক্ষা করার কারণে বিনিয়োগের ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ ধারণা পান না তাঁরা।

Advertisement

কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পর্যবেক্ষণ, বিশেষ করে নিরীক্ষকের মতামত এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি চিহ্নিত করা সম্ভব। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার দুর্বলতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। ফলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ভালোভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে নজরদারি ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানান তিনি।

আলোচকেরা বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা ঠেকাতে শুধু নজরদারি বাড়ালেই হবে না, বিনিয়োগকারীদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো শেয়ার কেনার আগে কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউস কিংবা বিনিয়োগ পরামর্শদাতার পরিচয় ও নিবন্ধন যাচাই করা প্রয়োজন। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া লিংকে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড কিংবা আর্থিক তথ্য সরবরাহ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে একটি সমন্বিত পাবলিক ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার তাগিদ দেন বক্তারা। এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নিবন্ধন, পরিচয় এবং অনুমোদনের তথ্য সহজে যাচাই করতে পারবেন। এতে ভুয়া প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সহজ হবে বলে মনে করেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক শিক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও প্রতারণামূলক প্রস্তাব মোকাবিলায় দ্রুত তথ্য যাচাই এবং কার্যকর সতর্কীকরণব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

  • সর্বশেষ