ডায়াবেটিক রোগীদের সবসময় জানতে হয় কোন খাবার উপকারী আর কোনটা এড়িয়ে চলা উচিত। নারকেল বিশেষত এর সাদা শাঁস অনেকের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকে। এর স্বাদ, আঁশ ও পুষ্টিগুণের কারণে এটি জনপ্রিয় হলেও, এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালরি বেশি থাকে। ফলে প্রশ্ন ওঠে নারকেল কি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নিরাপদ?
চিকিৎসকদের মতে, নারকেল পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে আঁশ, খনিজ ও কম গ্লাইসেমিক সূচক, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আঁশে ভরপুর
নারকেলের অর্ধেকের বেশি কার্বোহাইড্রেট আসে আঁশ থেকে। এটি হজম ধীর করে, ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধির ঝুঁকি কমে।
লো গ্লাইসেমিক ইমপ্যাক্ট
নারকেল ধীরে গ্লুকোজ ছাড়ে, ফলে রক্তে সুগার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
নারকেলের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও আঁশ পেট ভরা রাখে দীর্ঘক্ষণ। অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে, ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
প্রয়োজনীয় খনিজের উৎস
নারকেলে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন ও কপার। যা শরীরে শক্তি তৈরি ও বিপাকক্রিয়ায় সহায়ক।
কিভাবে খাবেন নারকেল
পরিমিত পরিমাণে খান: প্রতিদিন ৩০–৪০ গ্রাম বা ২–৩ টেবিল চামচ কুচানো নারকেল যথেষ্ট।
মিষ্টি নারকেল নয়: চিনিযুক্ত নারকেল ক্যান্ডি বা ডেজার্ট এড়িয়ে চলুন। এতে রক্তে সুগার বেড়ে যেতে পারে।
লো (জিআই) খাবারের সঙ্গে খান: নারকেল ডাল, সবজি বা সালাদে মিশিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখুন: নারকেল ইতিমধ্যেই স্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর, তাই অন্য ফ্যাট (যেমন ঘি বা তেল) কম খেতে হবে। চাইলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যেমন জলপাই তেল বা বাদামও খাওয়া যেতে পারে।
সুগার মনিটর করুন: নারকেল খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন, যাতে বুঝতে পারেন আপনার শরীরে এর প্রভাব কেমন।
নারকেল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে, যদি তা খাওয়া হয় সীমিত পরিমাণে ও সুষম ডায়েটের অংশ হিসেবে। এর আঁশ ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, তবে অতিরিক্ত খেলে ক্যালরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সূত্র : নিউজ ১৮