বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যায়। অনেকেই অল্প বয়সে ত্বকে বলিরেখা, দাগছোপ ও শুষ্কতা নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। এর পেছনে দায়ী অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দূষণ, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং ত্বকের অযত্ন। এসব কারণ মিলিয়ে শরীরে বাড়ে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, যা ত্বকের কোষকে দ্রুত ক্ষয় করে বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে।
বয়স বাড়লে ত্বকে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বয়সের আগেই যদি সেই লক্ষণ স্পষ্ট হয়, তাহলে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। সুখবর হলো, এর জন্য দামী স্কিন কেয়ার বা কসমেটিক ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কিছু উপকারী উপাদান যোগ করলেই বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে ধীর করা সম্ভব।
আমলকি
উপমহাদেশে ডায়েটে যুগ যুগ ধরে আমলকির ব্যবহার রয়েছে। ভিটামিন সি-তে পরিপূর্ণ এই ফল ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে। এ ছাড়া আমলকিতে পলিফেনল রয়েছে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং প্রদাহ প্রতিরোধ করে। ত্বকের সমস্যার পাশাপাশি আমলকি অন্ত্র, লিভার, জয়েন্ট সহ একাধিক অঙ্গের সমস্যা কমিয়ে দেয়।
বেরিজাতীয় ফল
আমলকির পাশাপাশি ব্লুবেরি, র্যাশবেরি, ব্ল্যাকবেরির মতো ফলও খেতে হবে। বেরিজাতীয় ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হয়। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং ত্বকও ভালো থাকে। এ ছাড়া ব্রেন ও হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে মেটাবলিক ডিসঅর্ডার থেকে বলিরেখা, যাবতীয় সমস্যা কমিয়ে দেয় বেরিজাতীয় ফল।
আখরোট
শরীরে ক্রনিক প্রদাহ তৈরি হলে ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে, ত্বকের সমস্যা বাড়তেই থাকে। প্রদাহ কমানোর জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর আখরোট খেতে পারেন। আখরোট হার্ট ও ব্রেনের পাশাপাশি মেটাবলিক স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে। এটি কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে।
হলুদ
ত্বকের সমস্যা কমাতে শুধু হলুদ মাখলে চলবে না, নিয়ম করে খেতেও হবে। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন যৌগ, শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের কাজ করে। রোজ হলুদ খেলে ক্রনিক অসুখের ঝুকি সহজেই এড়ানো যায়। যে কোনও খাবারের সঙ্গে হলুদ ও গোলমরিচ খেতে পারেন।
এটি জয়েন্টের ব্যথা-যন্ত্রণা কমিয়ে লিভারের কার্যকারিতা সচল রাখে, বিপাক হার বাড়ায় এবং ত্বকের যত্ন নেয়। সূত্র: যুগান্তর