দীর্ঘদিন থেকে মাথার চুল ঝরে পড়া অনেক সময় হতাশার কারন হয়ে দাড়াতে পারে। দামি তেল, শ্যাম্পু ও সিরাম ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় না। অনেকে চুল পড়া রোদে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালতে থাকেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল কারণটি চুল রোধের প্রসাধনীর চেয়ে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেই লুকিয়ে থাকতে পারে।
অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া, মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার, লাল মাংস ইত্যাদির মতো খাবারের কারনেই ধীরে ধীরে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে চুল পাতলা হয় এবং বেশি ঝরে পড়ে। চুল পড়াকে অনেক সময় শুধু বাহ্যিক সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু নিয়মিত চুল পড়ার পেছনে প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও পুষ্টির ঘাটতির মতো অভ্যন্তরীণ কারণও থাকতে পারে। যেসব খাবারে চুল কমে যায়, সে কারনগুলো চলুন জেনে নেওয়া যাক-
চুলের গোড়া দুর্বল করতে পারে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট
সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, পেস্ট্রি, মিষ্টি ও চিনিযুক্ত স্ন্যাকসের মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট চুল দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ। এসব খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি কম থাকে এবং শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া ও চর্বি জাতীয় খাবার
অতিরিক্ত ভাজা পোড়া ও চর্বি জাতীয় খাবারে সাধারণত ট্রান্স ফ্যাট, ওমেগা-৬ ফ্যাট ও লবণের পরিমাণ বেশি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগুণ থাকে কম। নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং চুল পড়াও দ্রুত বাড়াতে পারে।
নির্দিষ্ট সামুদ্রিক মাছ
মাছ সাধারণত স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও, কিছু সামুদ্রিক মাছ চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাঙর মাছ, সোর্ডফিশ, কিং ম্যাকারেল এবং কিছু ধরনের টুনা চুলের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই মাছগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে চুলের শক্তি ও স্থায়িত্ব কমাতে পারে।
লাল মাংস
লাল মাংস কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে আগেই যুক্ত ছিল, পাশাপাশি এটি চুলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি চুল দুর্বল করে।
চিনিযুক্ত পানীয়
চিনিযুক্ত পানীয় শুধু হজমের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে পুষ্টির ঘাটতি তৈরী হয় এবং পরোক্ষভাবে চুল পড়ার কারণ হতে পারে। এ ধরনের পানীয় এড়িয়ে চললে চুলের ফলিকলের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ কমে এবং চুলের উন্নতি হতে পারে। সূত্র: যুগান্তর