শিরোনাম
◈ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাংচুর: ১ কোটি টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ হুতিরা কারা, কেন সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের লড়াই? ◈ টেস্ট ক্রিকে‌টে পেস বো‌লিং‌য়ে হাসান মাহমুদের নতুন অধ‌্যা‌য়ের সূচনা ◈ নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যায় ৩৫ বাড়িঘর-সেতু বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র: নিরাপদে সরছেন বাসিন্দারা ◈ সৌদি আরবে হুতি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে ৪ জন; মরদেহ আনা হবে রাষ্ট্রীয় খরচে ◈ জেদ্দা বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক, ঢাকাগামী বিমানের যাত্রীদের বোর্ডিং শুরু ◈ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দারের মরদেহ ভারত থেকে হস্তান্তর ◈ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক নয়, স্বাভাবিক রাখতে হবে মেট্রো-রেল ও ইন্টারনেট পরিষেবা ◈ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনে নতুন পরিপত্র জারি, ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা ◈ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি, ইতিহাস গড়লেন বাংলা‌দে‌শের সোবহানা

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৯ বিকাল
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাড়তি খরচে মুখ ফেরাচ্ছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা, সংকটে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের উচ্চ হার, আবেদন ফি বৃদ্ধি ও অভিবাসননীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন।

এতে আর্থিক চাপে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। কোথাও কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে, কোথাও ব্যয় কমাতে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ।

রবিবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা বিভাগের অক্টোবরের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ আসনের গড়ে মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

Advertisement

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি তাদের বরাদ্দের ৮০ শতাংশের বেশি আসন পূরণ করতে পেরেছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ই বড় শহরে অবস্থিত। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে আঞ্চলিক এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

নিউ সাউথ ওয়েলসের চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটি চলতি বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আসনের মাত্র ৪০ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে।

গত বছরের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র এক-পঞ্চমাংশে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তা মাইক ফার্গুসন জানিয়েছেন, বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের আয় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মী ছাঁটাই ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফার্গুসনের মতে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের উচ্চ হার ও আবেদন ফি বৃদ্ধি বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলার। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও এই অর্থ ফেরত পাওয়া যায় না। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের প্রায় ৫৩ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। ফলে বিপুল অর্থ খরচ করেও ভিসা না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন।


বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান। ভিসাপ্রক্রিয়ার জটিলতা ও বাড়তি ব্যয় তাঁদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে সিডনির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক জর্জ উইলিয়ামস জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সেবা চালু রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষণায় ব্যয় করে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় নয়, শিক্ষা ও গবেষণার সামগ্রিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উইলিয়ামসের মতে, অভিবাসন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ কেমন হবে, তা নিয়েও অনেক শিক্ষার্থী নতুন করে ভাবছেন।

একই ধরনের সংকটে রয়েছে ভিক্টোরিয়ার ফেডারেশন ইউনিভার্সিটি। প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য ডানকান বেন্টলি আঞ্চলিক এলাকার জন্য বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক স্টুডেন্ট ভিসা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষকতার মতো যেসব পেশায় কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, সেসব বিষয়ে পড়তে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা প্রয়োজন।

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউডও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, আঞ্চলিক এলাকায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকলে ভবিষ্যতে নার্সিং, শিশু পরিচর্যা, প্রবীণদের সেবা ও প্রকৌশল খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট আরো বাড়তে পারে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পিত সংখ্যা নির্ধারণ করেছে দুই লাখ ৯৫ হাজার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বছর শেষে নতুন শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখে সীমিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় নতুন বিধি-নিষেধ কার্যকর করেছে সরকার। গত ২ অক্টোবর থেকে অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীর অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড় থাকলেও শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী জোট ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি বছরে ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করার পরিকল্পনা দিয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ দেশটির আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকলে আর্থিক সংকট আরো গভীর হবে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা এবং আঞ্চলিক এলাকার কর্মসংস্থানেও।

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

  • সর্বশেষ