ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস: ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আটকের পর দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুক্তির পর পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মমতা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, দিল্লির জাফরপুর কালান থানাসহ বিভিন্ন থানায় নেওয়ার পর কেজরিওয়াল, মমতা ও তাঁর দলের সংসদ সদস্যরা মুক্তি পান।
মুক্তির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দিল্লির পরিস্থিতি জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। পুলিশের আচরণ ও আটকের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁদের যেভাবে জোর করে তুলে নেওয়া হয়েছে, তাতে অপহরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
মমতা জানান, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের পথ আটকে দেয়। পরে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এসে তাঁদের জোর করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, আটকের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা গন্তব্য না জানিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁদের এক থানা থেকে অন্য থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে তিনি নজিরবিহীন হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এ ধরনের দমন-পীড়ন চালিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এ আটকের ঘটনা ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।