শিরোনাম
◈ পাহাড়ি আম-আনারসসহ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা, চাঁদাবাজি বন্ধে গুরুত্ব সরকারের ◈ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ◈ ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত ◈ দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্ত কেজরিওয়াল-মমতা, আটককে ‘অপহরণ’ বললেন তৃণমূল নেত্রী ◈ সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত বহু যাত্রী; বাতিল বহু ফ্লাইট ◈ আবুধাবি টেস্ট, বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে লড়‌ছে আফগা‌নিস্তান, এখ‌নো ১৩৫ রানে পিছিয়ে ◈ যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলি, শিশুসহ নিহত ৯ ◈ ফেসবুকে পরিচয় কে এই রাজু, ১৭ দিনের সম্পর্কের পর কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে কী ঘটেছিল স্কুলছাত্রীর সঙ্গে ◈ চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি: বাংলাদেশের লাভ কতটা, ঝুঁকি কোথায়? ◈ কোনো দেশের মুখাপেক্ষী নয়, সমমর্যাদার অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ রাত
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় তাজমিন হত্যা

ফেসবুকে পরিচয় কে এই রাজু, ১৭ দিনের সম্পর্কের পর কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে কী ঘটেছিল স্কুলছাত্রীর সঙ্গে

কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) কক্সবাজার যাত্রা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ফেসবুকে পরিচয়ের পর মাত্র ১৭ দিনের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল সে। পরে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় কিশোরীটি।

কালবেলার নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজু চৌধুরী কক্সবাজারের কলাতলী ডলফিন মোড় এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। তাঁর বাড়ি চকরিয়া লামা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের বরছনখোলা গ্রামে। তবে হত্যাকাণ্ডে রাজুর সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়াই (৩৫) হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

যেভাবে কক্সবাজার যায় তাজমিন

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায় তাজমিন। পরে কুমিল্লায় ফিরে সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। যাওয়ার সময় মাকে জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।

Advertisement

রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর সোমবার রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজারে পৌঁছায় তাজমিন। সেখানে রাজু তাকে একটি হোটেলে নিয়ে যান। পরদিন সকালে তাঁরা কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের মেঘলা রিসোর্টে ওঠেন।

জানা গেছে, ইনস্টাগ্রামে প্রায় তিন মাস ধরে তাঁদের যোগাযোগ ছিল। পরে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্পর্কের সময়কাল ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

বাসের টিকিট কাটেন রাজু

কক্সবাজারের কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ কালবেলাকে জানান, ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ৮টার পর তাজমিন ও রাজু তাঁদের কাউন্টারে আসেন। পরদিনের জন্য আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসের একটি টিকিট কাটেন রাজু।

রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি তাজমিনকে বাসে তুলে দেন। কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা বাসটি রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের কাছে পৌঁছায়।

পরে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আবদুল্লাহ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং বাসে যাওয়া কিশোরীকে তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তিনি জানতে পারেন, রাজু হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। এরপর রাজুর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তাঁকে কর্মস্থলের হোটেলেও পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আত্মগোপনে গেছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মায়ের সঙ্গে শেষ কথা, গোপন রেখেছিল বন্ধুর পরিচয়

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে নিয়ে আসতে বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মা। কিন্তু বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন কিছু জানায়নি।

মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটনের আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ রাখার চেষ্টা করতেন। তারপরও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, তাজমিন ছিল চঞ্চল স্বভাবের। মা অসুস্থ থাকলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত সে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং কাজের কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাগ হলে তাজমিন কখনো কখনো হুট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেত।

পদুয়ারবাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা বাস থেকে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহান এলাকায় নামে তাজমিন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।

পুলিশ জানায়, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে যেসব বিষয় সামনে এসেছে

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাজমিনের মায়ের সন্দেহের তালিকায় থাকা এক বান্ধবী বয়সে তার চেয়ে বড়। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবী বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খানের মতে, রাজুর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে তাজমিন কক্সবাজারে না গেলে হয়তো এমন বিপদের মুখে পড়ত না। তবে হত্যাকাণ্ডের দায় নির্ধারণে অনুমান নয়, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ।

১৫ বছর বয়সী তাজমিনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং অনলাইনে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • সর্বশেষ