আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার ভোরে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুনার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তানি বাহিনী। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় একটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বাড়িতে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও চারজন।
এ ছাড়া পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলাতেও দুটি স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব হামলায় সেখানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের বসতিতে হামলার অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত মার্চে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি হাসপাতালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছিল। ওই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ভারতও। পরে পাকিস্তানের জবাব দিতে আফগান বাহিনী জুলাইয়ে ড্রোন অভিযান চালায়।
তবে পাকিস্তানের দাবি ছিল, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই তারা ওই ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সোমবারের হামলায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংঘাতের নেপথ্যে টিটিপি
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম কারণ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ‘পাকিস্তানি তালেবান’ নামেও পরিচিত।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রায়ই টিটিপির সংঘর্ষ হয়। ইসলামাবাদের অভিযোগ, টিটিপির সদস্যরা আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় ও সহায়তা পাচ্ছে এবং কাবুলের তালেবান সরকার তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কাবুলের দাবি, টিটিপির তৎপরতা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এর দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপানো উচিত নয়।
এর মধ্যেই গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি থানায় হামলা চালায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। ওই হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা ঘটল।